আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

1

অনন্ত জলিলের ক্যারেক্টার সবার জানা’

প্রথমবার্তা,প্রতিবেদক :ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ি করে ভিডিও বার্তা দিয়ে সোশাল মিডিয়ায় চরম রোষানলের মুখে পড়েন বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। যদিও তীব্র প্রতিবাদের মুখে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নারীর পোশাক নিয়ে করা মন্তব্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হন এই অভিনেতা।

 

নারী ও মেয়েদের ওপর ধর্ষণ এবং সহিংসতার ক্রমবর্ধমান ঘটনার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যখন বিক্ষোভের মধ্যে, তখন ‘অযাচিত যৌন হয়রানিকে’ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য নারীদের পোশাককে দায়ী করেন জলিল।

 

অনন্ত জলিলের এমন বক্তব্যকে বেশির ভাগ মানুষই কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে সোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন। কেউ কেউ মন্তব্য করে বলেন, ‘জলিলের এমন বক্তব্য ধর্ষকদের উল্টো উস্কে দিতে পারে।’ ছোট ও বড় পর্দার অভিনেতা, নির্মাতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও নারীর পোশাক নিয়ে জলিলের এমন কুরুচিকর বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অবিবেচক মন্তব্য’ বলে মত দেন। অনেকে এসময় জলিলকে ‘বয়কট’ করারও আহ্বান জানান।

 

ব্যাপক রোষের মুখে পরবর্তীতে নারীর পোশাক নিয়ে করা মন্তব্যটি ভিডিও থেকে ছেঁটে ফেলে পুনরায় নিজের ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করেন।সোমবার সকালে নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করে জলিল বলেন, আমি মেয়েদের সম্মান করি।

 

শুধু মেয়েদের নয়, সারা দেশের মানুষদেরই সম্মান করি। এটা মুখে বলার কথা নয়। ২০০৮ সাল থেকে আমি মিডিয়াতে আছি, অনন্ত জলিলের ক্যারেক্টার সবার জানা। মেয়েরা মায়ের জাত, তাদের সম্মান করি।

 

রবিবার সন্ধ্যায় আমি সবার সাথে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলাম, সেই ভিডিওতে আমি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এবং বেড়ে চলা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলেছিলাম। নারীরা কী করলে ধর্ষণের শিকার হবে না, এটা নিয়েও কিছু মতামত ব্যক্ত করেছিলাম। পরবর্তীতে নারীদের পোশাক নিয়ে বলা কথার অংশটুকু বাদ দিয়ে ভিডিও এডিট করে পুনরায় প্রকাশ করি।

 

তিনি বলেন, ‘আমি একটি ব্যাপারে মর্মাহত,কারণ সেই ভিডিওতে ৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আমি ধর্ষকের বিরুদ্ধে বলেছি। যারা আমার ভিডিওতে বলা ‘নারীদের পোশাক’ অংশটুকুর সমালোচনা করলেন, তাদের চোখে ধর্ষকের বিরুদ্ধে বলা আমার কথাগুলো চোখে পড়লো না?’

 

সমালোচকদের প্রশ্ন রেখে অননন্ত জলিল বলেন, ‘ভিডিওর ৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড যে আমি ধর্ষককারীদের (ধর্ষণকারী) বিরুদ্ধে কঠোর কথাগুলো বললাম, এগুলোর জন্য তো আমাকে অ্যাপ্রিসিয়েটও করতে পারতেন।

 

তাহলে কী দাঁড়ালো যে, নেগেটিভ বিষয়ই আপনাদের কাছে বড়। এটা সমালোচকদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমার মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর তাদের থেকে আমি পাবো।’