আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1024 190342

অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ফুলবাড়ীতে ৩ হাজার বিঘা জমির জলাবন্ধতা নিরসন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলার খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ঠ জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ১২ টায় উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামে কোদাল হাতে ক্যানেল নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ি-দৌলতপুর ইউনিয়নের আশ পাশের ১০টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে দির্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকার কারণে ওই জমি গুলো অনাবাদী হয়ে পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে কৃষকরা দাবি জানিয়ে আসলেও কোন উপকার পায়নি। সর্বশেষ দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উদ্যোগে এই জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে ক্যানেলের কাজ শুরু হলো।

দৌলতপুর মৌজায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে আলম সরকার তার ১ একর জমিতে কোন ধরণের চাষাবাদ করতে পারছিলেন না। আলম সরকার বলেন,তার দুই বিঘা জমি পূর্বে থেকেই ছিল পরে তিনি আরও এক বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে জমিগুলোতে কোন চাষাবাদ করতে পারছিলেন না তিনি।

তিনি আরও জানান, মাত্র ৩০০ ফিট একটি ড্রেন না থাকায় তার মতো কয়েকশ কৃষক তাদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারছিলেন না। এই ড্রেনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে কয়েকশ কৃষক পরিবার তাদের জমিতে আবারো ফসল ফলাতে পারবে।

একইভাবে খয়েরবাড়ি এলাকার কৃষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন এর আগে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগসহ মানববন্ধন করেছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সর্বশেষ জেলা প্রশাসক কৃষকের দাবির প্রেক্ষিতে নিজেই কোঁদাল নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দু’একদিনের মধ্যেই এই ড্রেনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে তারা আবার জমি গুলোতে ফসল ফলাতে পারবে এমনটিই প্রত্যাশা সাধারন খেঁটে খাওয়া মানুষগুলোর।’

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে কয়েক হাজার কৃষক ফসল ফলাতে পারতেন না।

এ বিষয় নিয়ে আমরা উপজেলার প্রতিটি সভায় আলোচনা করেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার মহোদয়ও জানেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনিও চেষ্টা করেছেন।

আজকে এই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় নিজেই এসেছেন ক্যানেল নির্মাণের কাজ চলছে। এই ক্যানেলটি শাখা যমুনা নদীতে সংযুক্ত হলে এই এলাকার জমির পানিগুলো নদীতে নেমে যাবে। কাজটি শেষ হলে কয়েকশ পরিবার উপক্রিত হবেন।

জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর এলাকার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে কৃষকরা ফসল ফলানো থেকে বঞ্চিত ছিল।

এলাকাবাসীরা বিষয়টি জানালে তিনি সরেজিমনে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কয়েকশ পরিবার যাতে তাদের কৃষি জমিতে ফসল ফলাতে পারে সেজন্য ৩০০ ফিট পরিমান ড্রেন নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এরই প্রেক্ষিতেই আজকে এলাকাবাসীর সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে স্বেচ্ছাশ্রমে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ড্রেন নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি তিনি নিজেই তদারকি করবেন বলেও জানান। এছাড়াও ড্রেন নির্মাণের ফলে যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তারাও জমি এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ পাবেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন,সদ্য যোগদাকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন,সহকারী কমিশনার ভূমি কানিজ আফরোজ, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরু সামসুন্নাহারসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান । ড্রেন নির্মাণ কাজে এগিয়ে আসেন ফুলবাড়ী উপজেলার শিক্ষক, সুধিজন, কৃষক, কৃষাণী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ।