আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

050607012259005049ddddd

আগামী বাজেটের আকার বাড়ছে সামান্যই

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: প্রতি অর্থবছর বাজেটের আকার, রাজস্ব আয়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা-আলোচনা হয়। এবার করোনা মহামারির কারণে সরকারের প্রায় সব রীতি ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে।

 

আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, তা চলতি অর্থবছর থেকে মাত্র ২৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।

 

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও খুব একটা বাড়েনি; মাত্র এক হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ দুই প্রধান খাত মেলাতে গিয়ে সরকারের ঘাটতি প্রথমবারের মতো দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

 

গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট এবং চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়নে আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন।

 

সূত্র মতে, প্রতি অর্থবছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকেই আগামী অর্থবছরের বাজেটের একটি প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়।

 

সে রূপরেখা অনুযায়ী জুনে চূড়ান্ত বাজেট তৈরি করা হয়। গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থনীতিতে করোনা মহামারির প্রভাবসংক্রান্ত ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা অর্থমন্ত্রীকে দেখানো হয়।

 

এতে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ আগামী মাসে ঘোষণার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। তার পরই আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

 

প্রথমে ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেটের পরিকল্পনা করলেও তা থেকে পিছিয়ে এসেছে মন্ত্রণালয়। এবার কিছুটা ঘষামাজা করে নতুন অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে।

 

এটি জিডিপির ১৬.৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছর থেকে এর আকার ২৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

 

সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে বাজেটের আকার খুব সামান্যই বাড়ছে। নতুন বাজেটে এক হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে রাজস্ব টার্গেট তিন লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

 

এটি জিডিপির ১০.৮ শতাংশ। বৈঠকে দুই লাখ ছয় হাজার ৬১ কোটি টাকা ঘাটতির প্রস্তাব করেছে। এটি জিডিপির ৫.৮ শতাংশ। আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭.৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হচ্ছে ৫.৩ শতাংশ। জিডিপির আকার ধরা হচ্ছে ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে মোট বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে জিডিপির ৩২ শতাংশ।