আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

129

আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে দেশের সব জেলায় পৌঁছে যাবে টিকা: পাপন

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় সাগরি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুল লতিফ মোল্লা (৪৫) ও সতীন আসমা বেগমকে (৩৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।

আবদুল লতিফ মোল্লা নাটোর জেলার আহম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের শ্রীধরপুর আংরার বিল এলাকা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দুর্গাপুরের শ্রীধরপুর আংরার বিলে পুকুর পাহারাদারের কাজ করতেন আবদুল লতিফ। পুকুরপাড়ে ঝুপড়ি তুলে সেখানেই তৃতীয় স্ত্রী সাগরি বেগমকে নিয়ে বাস করতেন। পুলিশের জেরার মুখে আবদুল লতিফ স্বীকার করেছেন, পারিবারিক কলহের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি স্ত্রীকে চড় মারেন। এরপর অভিমানে বিষপান করেন সাগরি। বিসয়টি বুঝতে পেয়ে তাকে সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ সেই পুকুরপাড়ে নিয়ে আসেন তারা।

তবে নিহত সাগরি বেগমের ভাই আসলাম শেখের দাবি, তার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন আবদুল লতিফ। আর এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন তার চতুর্থ স্ত্রী আসমা বেগম।

মাস দুয়েক আগে সাগরি বেগমে না জানিয়ে আবদুল লতিফ উপজেলার পূর্বে নারায়ানপুরের বাসিন্দা আবদুল বারীর মেয়ে আসমা বেগমকে বিয়ে করেন। সপ্তাহখানেক আগে স্বামীর চতুর্থ বিয়ের খবর পান সাগরি বেগম। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। গত ২২ জানুয়ারি স্বামীকে আদালতে যাওয়ার হুমকিও দেন সাগরি বেগম। বাড়াবাড়ি করলে দেখে নেওয়ারও পাল্টা হুমকি দেন আবদুল লতিফ। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে চতুর্থ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবদুল লতিফ সাগরি বেগমকে হত্যা করেন বেলে অভিযোগ করেন আসলাম শেখ।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, ‘মরদেহে আঘাতের চিহ্ন নেই। বিষপানে মৃত্যুর আলামতও অনুপস্থিত। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও সতীনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিহতের স্বজনরা। এ নিয়ে আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।’