আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1104 192143

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা-যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র – মোঃআজিজুল হুদা চৌধুরী সুমন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: আগামী ১০ নবেম্বর গনতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মোঃ আজিজুল হুদা চৌধুরী সুমন এক প্রেস বিবৃতিতে গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী সংগ্রামী দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর সামরিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু করেছিলেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী বিচারপতি নুরুল ইসলাম বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। সপ্তম সংশোধনী হচ্ছে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি। সংসদে এ সংশোধনী বিলটি পাসের সময় সরকারি-বিরোধী মিলিয়ে ২২৩ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবার সর্বসম্মত ভোটে সংশোধনীটি পাস হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের সদস্যরা তখন সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। ৫ ঘণ্টা স্থায়ী এ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্যে জাসদ (রব)-এর ৪ জন, মুসলিম লীগের ৪ জন, শাজাহান সিরাজের জাসদের ৩ জন, বাকশালের ২ জন এবং স্বতন্ত্র সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী সংসদে উপস্থিত থেকে সপ্তম সংশোধনী বিল পাসের পক্ষে ভোট প্রদান করেন। এ অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যরা বলেছিলেন, দেশ থেকে সামরিক আইন অবসানের লক্ষ্যে তারা সপ্তম সংশোধনী বিলে সমর্থন দিয়েছেন। তারা বলেছিলেন, গত সাড়ে চার বছর আন্দোলন করে সামরিক শাসনের অবসান হয়নি এবং গণতন্ত্র ফিরে আসেনি। এখন এ বিল পাসের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসান হবে এবং ভবিষ্যতে দেশে আর সামরিক শাসন আসবে না । সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, সপ্তম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর সপ্তম সংশোধনী পাস হওয়ার দিনেই রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে দেশ থেকে সামরিক আইন তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন। এ ভাষণে তিনি বলেন, ‘স্থগিত সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করা হল। গণতন্ত্র উত্তরণের যে পবিত্র প্রতিশ্রুতি আমি সাড়ে চার বছর আগে দিয়েছিলাম, আজ তার শেষ ধাপটি আমরা অতিক্রম করলাম। তাই আর কোনো বিদ্বেষ নয়, সংঘাত নয়, দলীয় সংকীর্ণতা নয়, আসুন দেশ ও জাতিকে আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেই। গণতন্ত্রের যে বীজ আজ অঙ্কুরিত হল- আমাদের সযত্ন লালনে তা মহীরুহ হবে। গণতন্ত্রের যে কাঠামো আমরা নির্মাণ করলাম- আসুন তাকে দেই আমরা দৃঢ় ভিত্তি ও স্থায়িত্ব। সপ্তম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের সময়ে গণতন্ত্র সম্পর্কে এটাই ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উক্তি।

এখন দেশের জন্য প্রয়োজন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের বিকাশ। গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে- তা উপড়ে ফেলার সাধ্য আর কখনও কারও হবে না- সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীর রয়েছে প্রধান ভূমিকা। এ সপ্তম সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শুরু হয়। এরপর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আর ব্যাহত হয়নি। সুতরাং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তারিখটি হচ্ছে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর