আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

amphan

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তৈরি হচ্ছে ১০০০ ঘর

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: দেশের ২৫ জেলায় ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে হতাহতের পাশাপাশি অনেকে হারিয়েছেন বসবাসের ঘর। বাড়ি থাকলেও টাকার অভাবে ভেঙে যাওয়া ঘর মেরামত করতে না পেরে অনেকে পরিবার এখনও রাস্তায় কাটাচ্ছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক হাজার ঘর নির্মাণ করছে সরকার। আসছে বছরের শুরুতেই এসব ঘর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটে ২৫টি, ভোলায় ১০টি, গোপালগঞ্জে ৫০টি, মাদারীপুরে ৫টি, ঝালকাঠিতে ৫টি, খুলনায় ২৪৯টি, লক্ষ্মীপুরে ৬টি, নোয়াখালীতে ৫টি, পটুয়াখালীতে ১০টি, সাতক্ষীরায় ২১১টি, শরীয়তপুরে ৬টি, ঝিনাইদহে ১৬৩টি, চুয়াডাঙায় ১৫টি, কুষ্টিয়ায় ১৫টি, মেহেরপুরে ১০টি, বগুড়া ১০টি, রংপুরে ৮টি, লালমনিরহাট ৭টি, কুড়িগ্রামে ১টি, যশোরে ১৩৯টি, মানিকগঞ্জে ৫টি, ফরিদপুরে ৫টি, মাগুরায় ১০টি এবং রাজবাড়ীতে ৫টি ঘর নির্মাণ করা হবে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের উপকূলীয় ২৫ জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সাড়ে এগারোশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাঁধ, রাস্তা, ব্রিজ কালভার্টসহ, গাছপালা, কৃষি ও চিংড়ি ঘের এবং মাছ চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি কাটিয়ে এখনও অনেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

 

তবে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।সূত্র জানায়, দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ জেলার জন্য ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসকের অনুকূলে যাওয়া ওই বরাদ্দ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মাত্রা বিবেচনা করে ঘরে সংখ্যা নির্ধারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ঘর নির্মাণকাজ শেষে উপকারভোগীদের নামের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত সংযুক্ত ছক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঠাবে। এরপর ইউএনও যার জমি আছে ঘর নেই তার জমিতে গৃহ নির্মাণ নীতিমালার আলোকে ঘর বানিয়ে দেবেন।

 

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীনের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা-২০২০-এ অন্তর্ভূক্ত নকশা অনুযায়ী এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রকল্পের অর্থ জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থ পাওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

 

পিআইসির সদস্যরা গৃহ নির্মাণকালে প্রতিটি গৃহ সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করবেন। এ সময় তারা নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করবেন।

 

এ প্রসঙ্গে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসকদের কাছে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার সম্ভব হবে।’