আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1030 110621

ইচ্ছামৃত্যু নিয়ে গণভোটে ৬৫ ভাগ সমর্থন পেয়েছে নিউজিল্যান্ড

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল নিউজিল্যান্ড। ইউথেনেশিয়াকে স্বীকৃতি দিলেন দেশের মানুষ। আগামী বছর থেকে মৃতপ্রায় মানুষ ইচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারবেন। খবর রয়টার্স ও ডয়চে ভেলের।

কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের পর ইচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দিল নিউজিল্যান্ড।

কাজটি সহজ ছিল না। বিশ্বের বহু দেশেই ইথেনেশিয়া বা ইচ্ছামৃত্যু নিয়ে বহু আন্দোলন হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের মূলত দুইটি বক্তব্য। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তাঁরা এবং তাঁদের পরিবার জানেন যে, কোনো ভাবেই তাঁদের সুস্থ করা যাবে না। তবু তাঁদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। পাশাপাশি মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে আরো বেশি শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই প্রয়োজন ইচ্ছামৃত্যু। চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়ে দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করতে পারলে কষ্ট লাঘব হয়।

আন্দোলনকারীরা যাই বলুন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের আইনই ইচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করে না। নেদারল্যান্ডস, ক্যানাডার মতো খুব সামান্য কিছু দেশে ইচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিউজিল্যান্ডেও দীর্ঘ দিন ধরে ইথেনেশিয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ভোটের সময় স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে একটি রেফারেন্ডম বা গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার তার ফলাফল মিলেছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ ইচ্ছামৃত্যুর পক্ষে। সম্পূর্ণ ফলাফল অবশ্য এখনও মেলেনি। পোস্টাল ব্যালট গুণে চূড়ান্ত ফল জানাতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা পোস্টাল ব্যালট বর্তমান ফলকে বদলে দিতে পারবে না।

নিউজিল্যান্ডের আইনসভা জানিয়েছে, মানুষের রায় এসে গিয়েছে। এ বার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে আইন তৈরি করতে হবে। আগামী বছরের শেষের দিকে সেই আইন কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, আগামী বছরের শেষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মানুষ ইচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারবেন। তবে সকলে নয়। আইনসভা জানিয়েছে, কেবলমাত্র মৃতপ্রায় ব্যক্তিরাই এই আইনের সাহায্য নিতে পারবেন। দুইজন চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা করবেন এবং তাঁদের ইচ্ছামৃত্যুর বিষয়ে সহমত হতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্দার্ন দীর্ঘদিন ধরেই ইচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করেছেন। গণভোটের ফলাফলকে সমর্থন করেছেন তিনি। অন্যদিকে ইচ্ছামৃত্যুর পাশাপাশি আরো একটি বিষয়ে গণভোট করা হয়েছিল। পরিমিত গাঁজা সেবন বৈধ করা হবে কি না। ৫৩ শতাংশ মানুষ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, ৪৬ শতাংশ মানুষ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল এই ফল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।