আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

030441Biden 01 kalerkantho pic

উগ্র ডানপন্থা ভোগাবে বাইডেনকে

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ জার্মানি থেকে নিউজিল্যান্ড—ক্রমে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে উগ্র ডানপন্থা। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও যে একই, তার প্রমাণ মার্কিন কংগ্রেসে ৬ জানুয়ারির নজিরবিহীন হামলা।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী চার বছর যেসব বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়তে হবে, উগ্র ডানপন্থা সেগুলোর একটি।

 

আর বিষয়টি এককভাবে মোকাবেলা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে ইউরোপকে সঙ্গে নিয়ে বাইডেনকে বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

উগ্র ডানপন্থাকে এরই মধ্যে অন্যতম শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাইডেন। গত বুধবার শপথ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে চরমপন্থা, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের উত্থান ঘটেছে।

 

আমরা অবশ্যই এগুলোকে পরাজিত করব।’ তিনি বলেন, ‘কোন শক্তি আমাদের মাঝে বিভাজন তৈরি করেছে, তা আমরা জানি। আমরা এ-ও জানি যে এটি নতুন কোনো শত্রু নয়। এই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে আমাদের।’

 

নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের প্রায় দেশেই গত কয়েক বছরে প্রাণঘাতী বহু হামলা চালিয়েছে উগ্র ডানপন্থীরা। বিদ্বেষ ছড়িয়েছে মুসলমান, অভিবাসী কিংবা উদারপন্থীদের বিরুদ্ধে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মতাদর্শে ট্রাম্প প্রশাসন বাধা যতখানি দিয়েছে, উসকানি দিয়েছে তার চেয়ে বেশি। মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাম কিংবা নৈরাজ্যবাদীদের বিপরীতে উগ্র ডানপন্থীরা অনেক বেশি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

 

৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে হামলার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হয় পাঁচজন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ওই দিনের সহিংসতায় যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের অনেকে আগে থেকেই গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিল। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় যে ১৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন একসময় মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

 

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, এঁদের মধ্যে ১২ জনকে শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই ১২ জনের সঙ্গে সরকারবিরোধী উগ্র ডানপন্থী বিভিন্ন গ্রুপের যোগাযোগ রয়েছে।

 

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে উগ্র ডানপন্থা সবচেয়ে বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জার্মানিতে। এ কারণে গত বছর জার্মান সামরিক বাহিনীর একটি অভিজাত ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ইউনিটের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা উগ্র ডানপন্থী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিউজিল্যান্ডে গত মার্চে এক উগ্র ডানপন্থীর হামলায় প্রাণ হারায় অর্ধশতাধিক মানুষ।

 

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র বিক্ষোভ করে উগ্র ডানপন্থীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেটে এই মতাদর্শ ব্যাপকভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ‘কিউআনন’-এর মতো অনেক গ্রুপ সক্রিয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার এই গ্রুপের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়ে গবেষণা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘নেটওয়ার্ক কন্টাজিওন রিসার্চ ইনস্টিটিউট’। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জোয়েল ফিনকেলস্টেইন বলেন, বিদ্বেষ ছড়াতে এসব গ্রুপে চরম উগ্র ভাষা ব্যবহার করা হয়।

 

সম্প্রতি ‘ফরেইন পলিসি’ সাময়িকীতে লেখক হেদার অ্যাশবি লিখেছেন, ‘উগ্র ডানপন্থাকে একটি নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলে মারাত্মক ভুল হবে।

 

এটাকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় এসেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিগগিরই যদি সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া যায়, তাহলে উগ্র ডানপন্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ বিশ্ব আর না-ও পেতে পারে।’ সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।