আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাস

উল্টে যাওয়া বাসে ট্রাকের ধাক্কা, ঝরল ১১ প্রাণ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: কুষ্টিয়াগামী গড়াই পরিবহনের দ্রুতগতির বাস একটি ট্রাককে অতিক্রম (ওভারটেক) করছিল। হঠাৎ বাসের চালক সামনে একটি ট্রাক দেখে ব্রেক করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়।

 

আর বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির ট্রাকটি বাসটিকে মাঝ বরাবর আঘাত করে। দুমড়েমুচড়ে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু, নারীসহ ৯ বাসযাত্রী। আহত হয় ১৫-২০ জন। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে দুই বাসযাত্রীর।

 

গতকাল বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারের আলহাজ আমজেদ আলী তেল পাম্পের কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।আরো তিন জেলায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ছয়জন। এর মধ্যে বগুড়ার গাবতলী ও কক্সবাজারের টেকনাফে রয়েছেন বাবা-ছেলে।

 

কালীগঞ্জে হতাহতদের মধ্যে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রেশমা খাতুন (২৩), ঝিনাইদহ সদরের নাথকুণ্ডু গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬), কালীগঞ্জের সুন্দরপুর গ্রামের ইসহাক মণ্ডলের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান কল্লোল (২৩), ঝিনাইদহের শৈলকুপার বড়বাড়ী বগুড়া এলাকার মৃত মহরম বিশ্বাসের ছেলে আবদুল আজিজ (৭৫), চুয়াডাঙ্গার জান্নাতুল বিশ্বাসের ছেলে অলিউল আলম শুভ (২৬) ও কালীগঞ্জের বড়ভাগপাড়ার রণজিৎ দাসের ছেলে সনাতন কুমার দাস (২৬)। রেশমা যশোর থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে বাসে করে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় রেশমার নিহত হওয়ার খবরে তাঁর বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মেজবাহ উদ্দীন জানান, বিকেল ৩টার দিকে খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী গড়াই পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ১১-০২১৪) একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে বারোবাজারে তেল পাম্পের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় কুষ্টিয়া থেকে যশোরগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক ব্রেক করার চেষ্টা করেও না পেরে বাসটিকে আঘাত করে।

 

এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহত হয় বাসের ৯ যাত্রী। আহত হয় ১৫-২০ জন। তাদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুল্যান্সে করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। পরে যশোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় একজনের। এদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত চলে যায়।

 

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে লাশ ও বাসটি উদ্ধার করেন। ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেনসের উপপরিচালক শামীমুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজনের সৃষ্টি হয়।

 

কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছিল। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহা প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

বাবা-ছেলেসহ নিহত ৬ : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল দক্ষিণ মাথা নাইট্টারটেক পয়েন্টে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে গতকাল সকালে যাত্রীবোঝাই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পালকি পরিবহন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে ও এক শিশু নিহত হয়। আহত হন অটোচালকসহ পাঁচজন।

 

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পেরীহাটা এলাকায় গাবতলী-বাগবাড়ী সড়কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মৃত্যু হয়েছে বাবা-ছেলের। গুরুতর আহত হয়ে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি আছেন নিহত যুবকের মা। নিহতরা হলেন গাবতলীর বাইগুনী প্রামাণিকপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৬০) ও তাঁর ছেলে মুন্না (৩৪)। আহতের নাম মনোয়ারা বেগম (৫৫)।

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিল্পনগরী দর্শনা রেল ইয়ার্ডে গতকাল সকালে রেল ওয়াগন ও ট্রাকের চাপায় রেল ইয়ার্ড শ্রমিক সাজু আহাম্মেদের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। সাজু দর্শনা শান্তিপাড়ার মহিদুল ইসলামের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাজুসহ শ্রমিকরা রেল ওয়াগন থেকে ট্রাকে সয়াবিন লোড করছিলেন। লোড শেষে ট্রাকের পেছনের ডালা তোলার সময় ট্রাকটি একটু সামনে নেওয়ার জন্য হেলপার রিয়াজ উদ্দীন চালু করেন। এ সময় ট্রাকটি পেছনের দিকে গেলে ওয়াগনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আর ট্রাকের পেছনে থাকা সাজু গাড়ি দুটির চাপায় নিহত হন।