আজ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

লুঙ্গি

একদিন বিলুপ্ত হবে লুঙ্গি: তসলিমা

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ কত সিরিয়াস বিষয় নিয়ে দিন রাত লিখছি। কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তেমন। যেইনা মজাচ্ছলে লুঙ্গি নিয়ে লিখলাম, অমনি পুরুষজাতি ক্ষেপে আগুন। আমাদের উপমহাদেশীয় সমাজের অধিকাংশ পুরুষ বিশ্বাস করে, ধর্ষণের কারণ মেয়েদের পোশাক। তারাও সরবে না হলেও নীরবে বিশ্বাস করে মেয়েদের পোশাকের কারণেই ধর্ষণ ঘটে, যারা আজ বলছে পুরুষের লুঙ্গি নিয়ে কথা বলার অধিকার কোনও মেয়ের নেই। আমি লুঙ্গি নিয়ে কথা বলার স্পর্ধা দেখিয়েছি বলে আমাকে নানা ভাবে হেনস্থা করছে।

 

কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি পুরুষের পোশাক লুঙ্গি’। তাদের কোনও ধারণা নেই যে বাঙালি পুরুষের নির্দিষ্ট কোনও পোশাক নেই। পোশাকের বিবর্তন প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।

 

প্রাচীনকালে বাংলার পুরুষেরা গাছের বাকল পরতো। পরে কার্পাস তুলোর সুতোয় বানানো সেলাইবিহীন পোশাক পরতো, মূলত ল্যাংগোট পরতো। আরও পরে এসেছে ধুতি, তখন খাটো ধুতি পরতো।

 

লুঙ্গি তো এই সেদিনকার।  কোনও কোনও বিজ্ঞ বলছেন ‘পোশাক ব্যাপার নয়, প্যান্ট পাজামা পরেও পুরুষেরা অশ্লীল আচরণ করতে পারে, সমস্যা মানসিকতায়, পোশাকে নয়।

 

‘  আমার যেন জানতে বাকি রয়েছে প্যান্ট-পরা পুরুষদের অশ্লীলতা সম্পর্কে, তাদের নারীবিদ্বেষী মানসিকতার ব্যাপারে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, এক ভিড়ের বাসে এক লোক প্যান্টের জিপার খুলে তার সবেধন নীলমণিটি বের করে এক মেয়ের দিকে তাকিয়ে মাস্টারবেট করলো, বীর্যবানটির রসকষ ছিটকে পড়েছিল বাসে-বসা অনেকের গায়ে।

 

পুরুষের ‘মানসিকতা’ নিয়ে মেয়েদের জ্ঞান দেওয়ার জন্য অন্তত পুরুষের দরকার নেই –তা সেই পুরুষেরা জানে না, যারা আগ বাড়িয়ে জ্ঞান দেয়।  ছোটবেলা থেকেই মেয়েরা, বিশেষ করে বাংলায় যাদের জন্ম, দেখেছে হাটে মাঠে ঘাটে কীভাবে অচেনা ছেলেরা লুঙ্গি উঠিয়ে তাদের মূল্যবান ধন সম্পদ দেখিয়ে ফ্যাক ফ্যাক করে সশব্দে হাসে, এবং এই ভেবে তৃপ্তি পায় যে মেয়েদের বেশ অপমান করা গেল।

 

মেয়েরা বড় হয়েও দেখে, লুঙ্গি পরা অনেক লোকই তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বার বার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে। এটি দেখে মেয়েরা যে অস্বস্তিতে ভোগে, তা তারা একেবারেই জানে না, মনে হয় না।

 

লুঙ্গি পরলেও আণ্ডারওয়্যার পরা উচিত বলে আমি মনে করি। লুঙ্গি সম্পর্কে আমার মতটি ‘সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত মত’। আমি বলিনি লুঙ্গিকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হোক। এমনিতে এটি একদিন বিলুপ্ত হবে, শাড়ি যেমন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে।

-তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে