আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

155953141525

করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রশিক্ষণ দিল ডিএসসিসি

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) ভ্যাকসিন প্রদানে ৮৫ জন ডাক্তার ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সোমবার সকাল ১০টার দিকে নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটরিয়ামে এই ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসসিসি।

প্রশিক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মোট ৮৫ জন ডাক্তার ও নার্সকে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুজন প্রতিনিধি।

দুপুর ২টা পর্যন্ত চলমান এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে কভিড মোকাবেলায় বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম স্থান। ইতিমধ্যেই দেশে ভ্যাকসিন দেশে চলে এসেছে। এখন চলছে এই টিকা প্রদানের ট্রেনিং। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের এই দায়িত্ব দিয়েছে। সঙ্গে সহযোগিতা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচটি হাসপাতালকে বাছাই করা হয়েছে। এগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনালের হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রশিক্ষকরা গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে। তারাই আজ ট্রনিং দিচ্ছে। ২৭ তারিখ থেকে টিকার উদ্বোধন করা হবে। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়ার কাজ চলবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য টিকা দেওয়ার পর আধা ঘণ্টা পর্যন্ত টিকা গ্রহণকারীকে বসিয়ে রাখা হবে। পাঁচটি মেডিক্যাল প্রথম দিকে চার থেকে টিম কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে ২০০টি টিমে উন্নীত করা হবে। প্রতি টিমে ছয়জন করে সদস্য থাকবে। তার মধ্যে দুজন ভ্যাক্সিনেটর এবং চারজন ভলান্টিয়ার থাকবে।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষকরা ভ্যাকসিনের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। যেমন একজন রোগীকে দশমিক পাঁচ মিলিলিটার করে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে, ভ্যাকসিনের একটি ভায়াল ১০ জন রোগীকে দেওয়া যাবে। একটি ভায়ালে ভ্যাকসিন থাকবে পাঁচ মিলিলিটার করে। ভায়াল খোলার ছয় ঘণ্টা পর আর সেই ভায়ালের ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যাবে না।

কাদের টিকা দেওয়া যাবে না এমন বিষয়ে প্রশিক্ষকরা বলেন, ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী ও দুগ্ধপ্রদানকারী মা, অসুস্থ ব্যক্তি, করোনায় আক্রান্ত রোগীকে টিকা দেওয়া যাবে না। এ সময় টিকার পরবর্তী বিরূপ ঘটনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

এ সময় প্রশিক্ষকরা ভ্যাকসিন প্রদানের নিয়মাবলি ভালোভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের বুঝিয়ে দেন। পাশাপাশি একটি ডামি করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে তারা হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণ কক্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসতে দেখা যায়।