আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

024501Myanmar kalerkantho pic 1

ক্রমেই মারমুখী মিয়ানমার সেনাবাহিনী

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সামরিক অভ্যুত্থানের সাফাই গেয়েছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইং। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সামরিক সরকারের শাসনামলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না। পরিবর্তন করা হবে না মিয়ানমারের পররাষ্ট্রনীতিও। শিগগিরই নতুন নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে গণতন্ত্রের দাবিতে দেশটির রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীদের সামনে ক্রমেই ‘স্বরূপে’ হাজির হচ্ছে সামরিক সরকার। বিক্ষোভের প্রথম তিন দিন চুপ থাকলেও চতুর্থ দিনে জলকামান এবং গতকাল পঞ্চম দিনে এসে বিক্ষোভকারীদের দমাতে রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে পুলিশ। তবে সামরিক সরকারের চোখ-রাঙানি উপেক্ষা করে রাজপথে মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের আটক করে সেনাবাহিনী। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। তবে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। এ কারণে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে তারা।

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রায় এক সপ্তাহ পর সার্বিক বিষয় নিয়ে গতকাল গণমাধ্যমে কথা বলেছেন সেনাপ্রধান মিন অং লাইং। তাঁর পুরো বক্তব্য ছাপা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকায়। সেখানে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করলেও এই ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। লাইং বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে গৃহহীন লোকজনকে যেভাবে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেওয়ার কথা ছিল, তা অব্যাহত থাকবে। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব অনুযায়ী তাদের ফেরার অনুমোদন দেওয়া হবে। এ ছাড়া মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অস্থায়ী শিবিরে থাকা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তবে মিয়ানমারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সামরিক অভ্যুত্থানকে ‘অবধারিত’ প্রমাণের চেষ্টাও করেছেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, আটক নেতা অং সান সু চি নভেম্বরের যে নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, তা নিরপেক্ষ ছিল না। নির্বাচনে অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশন তা খতিয়ে দেখতে ব্যর্থ হয়েছে।

সেনাপ্রধান আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। এরপর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি। সেনাপ্রধান দাবি করেন, ২০১১ সাল পর্যন্ত পাঁচ দশক ধরে মিয়ানমারে যে সেনা শাসন চলেছে, এবারের সেনা শাসন তার থেকে ভিন্ন হবে।

সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা

সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করায় মিয়ানমারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ। অন্যান্য দেশকে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, ‘আমরা এই কঠোর বার্তাই দিতে চাই যে নিউজিল্যান্ডে বসে যা যা করা সম্ভব, মিয়ানমার ইস্যুতে তার সবই করা হবে।’ উল্লেখ্য, গত তিন বছরে মিয়ানমারকে প্রায় সোয়া চার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

রাবার বুলেট নিক্ষেপ

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের রাজপথে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। এর মধ্যে রাজধানী নেপিডোয় গতকাল বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। বিবিসির খবর অনুযায়ী, গতকাল বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এদিকে বিক্ষোভ দমাতে গত সোমবার নতুন কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করে সামরিক সরকার। নতুন বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কয়েকটি শহরে গণজমায়েত করা যাবে না। এ ছাড়া এসব শহরে রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত জারি থাকবে কারফিউ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।