আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

031827Rapa Plaza kalerkantho pic 1

ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা ফুটেজে পাঁচ চোর

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:ঢাকার ধানমণ্ডিতে রাপা প্লাজায় চারটি দোকানে চুরির ঘটনায় সাতজন চোরের একটি দল সরাসরি জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। চোরের দল নিজেদের লুকাতে আশপাশের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাগুলোর লেন্স ঢেকে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গোপন স্থানে থাকা ক্যামেরার ফুটেজে পাঁচজনের ছবি ধরা পড়েছে। একের পর এক তালা খোলা, দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে চুরি করা—সবই ধরা পড়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায়। অবশ্য তাদের মধ্যে চারজনই মুখোশ পরা ছিল।

এদিকে দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনা ঘটাতে গিয়ে চোরদলকে ২০ থেকে ২৫টি তালার বাধা মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে সেসব তালা ভাঙা বা কাটা হয়নি। বিশেষ কায়দায় বানানো চাবি দিয়ে তালাগুলো খোলা হয়েছে।

থানা পুলিশ ছাড়াও ডিবি ও গোয়েন্দারা চুরির এই ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছেন। এ লক্ষ্যে ধানমণ্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশফাক হাসান রাজীবের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের তদন্তকাজ এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চোরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

গত শনিবার গভীর রাতে রাপা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় থাকা রাজলক্ষ্মী জুয়েলার্স, গার্মেন্ট পণ্য বিক্রি প্রতিষ্ঠান জেন্টল পার্ক, মনসুন রেইন ও ভোগ সুলতানা নামের চারটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা দোকানগুলোর তালা না কেটে বা না ভেঙে চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় সেই দৃশ্যও ধরা পড়েছে। চোরদল জুয়েলারির দোকান থেকে ৪০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকারসহ চার দোকান থেকে চার লাখ টাকার বেশি চুরি করে নিয়ে যায়।

চুরির এই ঘটনায় রাজলক্ষ্মী জুয়েলার্সের মালিক মহাদেব কর্মকার বাদী হয়ে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এখন তালা খোলার চাবির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

চোরদল রাপা প্লাজার কয়েকটি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা আগেই কালো স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে দেয়। এ ছাড়া কয়েকটি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তার পরও দু-একটি ক্যামেরা তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। সেগুলো থেকে ফুটেজ মিলেছে।

সূত্র জানায়, চুরির এই ঘটনার কয়েকটি ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফুটেজের চিত্র থেকে তদন্তকারীরা ধারণা পেয়েছেন যে এই ঘটনায় পাঁচ থেকে সাতজন জড়িত। পাঁচজন শপিং মলে প্রবেশ করে। দুই থেকে তিনজন দোকানের ভেতরে ঢুকে লুটপাট করে। ভেতরে যারা প্রবেশ করেছে তাদের একজনের মুখোশহীন চেহারা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। শুধু রাপা প্লাজাই নয়, আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সেসব ফুটেজে কয়েকজন সন্দেহভাজনের তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাপা প্লাজার মূল গেটের সামনে একজন নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। শপিং মলের ভেতরে বা বাইরে আর কোনো নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন না। ওই নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, তিনি নিচে দায়িত্ব পালন করেন। ওপরে ওঠার সুযোগ তাঁর নেই। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

পুলিশের ধারণা, চোরদল শপিং মলে ঢুকেছে টয়েলেটের জানালা কেটে। তারা জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণের ভল্ট বা লকার ভাঙতে পারেনি। শুধু ডিসপ্লেতে সাজানো অলংকারগুলো নিয়ে গেছে।