আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গলাচিপায় নৌকা প্রতীক পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ
গলাচিপায় নৌকা প্রতীক পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ

গলাচিপায় নৌকা প্রতীক পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গলাচিপা উপজেলার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড যেকোনো সময় তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। এ সময় সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের উপজেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ঢাকা অবস্থান করছেন।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইউনিয়নগুলো হলো, কলাগাছিয়া, বকুলবাড়িয়া, গজালিয়া, ডাকুয়া, গলাচিপা সদর, পানপট্টি, চরকাজল ও চরবিশ্বাস। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় গলাচিপার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমাদানের শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর, বাছঅই ২০ অক্টোবর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৬ অক্টোব।

গলাচিপায় দ্বিতীয় ধাপে মোট আটটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূল থেকে তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রে তালিকা পাঠানোর পরেই দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। নিজেকে দলীয় যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ দিতে নানা ধরণের তদবির লোভিং এ ব্যস্ত রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে গলাচিপার ৮টির মধ্যে পানপট্টি ইউনিয়নে প্রথম বারের মতো ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য তৃণমূল থেকে তিনজন করে ২৩ জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্য থেকে কেন্দ্রের মনোনয়ন বোর্ড দলীয়ভাবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিবে এক জনকে। আর এবারের নির্বাচনে একের পর এক চকম দেখাচ্ছে সরকারিদল। বিচ্ছিন্ন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছায়ের প্রক্রিয়া শেষ করে তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে দলটির নেতৃবৃন্দ।

অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই আগের চেয়ে সতর্কভাবে এবারের প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এদিকে গত ১ থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৪টি দলীয় সম্ভাভ্য প্রার্থীদের কাছে উপজেলা পর্যায়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। গলাচিপার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে এবার আটটি ইউনিয়নে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধম ধাপে ৪টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও খালি মাঠ ছেড়ে দিবেন না বলে দলটির একাধিক নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিএনপির এমন কৌশলকে মাথায় রেখেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কৌশলী হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আভাস দিয়েছেন দলটির কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই দলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সমির দেবনাথ বলেন, গলাচিপা উপজেলার ঘোষিত আটটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য মোট ৪৪ টি ফরম বিক্রি করা হয়েছে।’

এদিকে, শনিবার যে কোন সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষনা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্দার মো. আলমগীর হোসেন।

গলাচিপা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীরা ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইজবুক) বেশ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই। এ ছাড়া ভোটারদের পদভারে পাড়া, মহল্লা, হাট-বাজার, চায়ের দোকান, খেয়া ঘাট, লঞ্চঘাট ও গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠেছে। আলোচিত হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। পোস্টারে ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। চলছে প্রার্থীদের চুলচেড়া বিশ্লেষণ। কে এলাকার উন্নয়ন করেছে, কে করতে পারবে না। আবার কে কোন দলের মনোনীত প্রার্থী কে হবেন বিদ্রোহী প্রার্থী। রাজনৈতিক দলের ‘গ্রুপ রাজনীতিতেও’ প্রভাব ফেলছে ভোটারদের। এমনকি প্রার্থীদের পূর্ব পুরুষের কর্মকাণ্ড আলোচনায় চলে আসছে।

তবে গলাচিপার প্রতিটি ইউনিয়নেই শাসক দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতার জন্য মাঠে নেমেছেন। বিএনপিসহ অন্য দলগুলো এখন পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার না করায় অনেকটা একচেটিয়াভাবেই মাঠে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের একাধিক দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, হোন্ডা মহড়াসহ বিভিন্ন শোডাউনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমার্থকরা।

অপরদিকে, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ঘোষণা দেওয়ায় এ দলের প্রার্থীদের ইচ্ছে থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে রাজি হচ্ছে না। তবে গোপনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন বলে দলটির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীই জানিয়েছেন। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগকে খালি মাঠ ছেড়ে দিবেন না এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। কিন্তু কী এমন কৌশল তা এখনই বলতে রাজি হননি তারা।

গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইদুর রহমান রুবেল বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল সিদ্ধান্ত বৃহত স্বার্থে মেনে নেব। বিএনপির প্রতীক নিয়ে মাঠে না থাকলেও কৌশলে নৌকার প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করতে পারে বলে মনে করি। তাই এবারের নির্বাচন বিগত দিনের নির্বাচনের চেয়ে অনেক গুরুত্ব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) মো. সোহরাব মিয়া বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্তের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো ঘোষণা আসেনি। তাই আমরা কোনো প্রার্থী বাছাই বা কোনো প্রক্রিয়াই গ্রহণ করিনি। তবে আগামী দুই একদিন পরে আমাদের উপজেলা কমিটির একটি সভায় পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও খালি মাঠ ছেড়ে দেওয়া হবে না।

এদিকে বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্দার মু. শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তা কমেছে। এর পরেও তারা নির্বাচনী মাঠ খালি রাখেননি। বিএনপি অফিসিয়াল কোনো প্রার্থী না দিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের পরাজিত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। ভোট যুদ্ধে অংশ নিতে তাদের অনীহা। আবার দলীয় প্রার্থী দিয়ে হেরে যাওয়ার ভয় রয়েছে এবং এসব প্রার্থী বিএনপির প্রতীক নিয়ে হেরে গেলে তাদের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই হয়তো নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিতে ইচ্ছুক না। তবে প্রতিপক্ষের সব ধরণের অপকৌশল মাথায় রেখেই নির্বাচনের মাঠে রয়েছি।