আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গিলগিট-বালতিস্তান নিয়ে ভারত-পাক তীব্র বিতর্ক

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: গিলগিট বালতিস্তানের নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। ভারতের দাবি পাকিস্তান অবৈধ ভাবে ওই অঞ্চলটি দখল করে রেখেছে। খবর ডয়চে ভেলে’র।

গিলগিট বালতিস্তানের নির্বাচন নিয়ে ফের বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে। আগামী ১৫ তারিখ সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভোটের আগে গিলগিট বালতিস্তানকে একটি আলাদা পাক প্রদেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছে ভারত। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলটি অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। সেখানে ভোট করার বা আলাদা প্রদেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার কোনো অধিকার নেই পাকিস্তানের।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ বন্ধ হলেও কাশ্মীর এবং লাদাখের একাংশ পাকিস্তান এবং অন্য অংশ ভারতের হাতে থেকে যায়। পাকিস্তানের কাশ্মীর অংশকে ভারত কোনোদিনই স্বীকার করেনি। ভারত ওই অঞ্চলটিকে পাক অধ্যুষিত কাশ্মীর হিসেবে চিহ্নিত করে। কাশ্মীর এবং লাদাখের সীমানায় অবস্থিত গিলগিট বালতিস্তান অঞ্চলটি নিয়ে তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে তীব্র বিরোধ রয়েছে। ভারতের দাবি, অবৈধ ভাবে পাকিস্তান ওই অঞ্চল দখল করে রেখেছে। বাস্তবে এলাকাটি ভারতের। কিন্তু পাকিস্তান কখনোই তা মেনে নেয়নি।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল গিলগিট বালতিস্তান। জনবসতিও খুব বেশি নয়। এতদিন পাকিস্তান ওই অঞ্চলে আলাদা করে কোনো নির্বাচন করেনি। কিন্তু এ বছরের গোড়ায় গিলগিট বালতিস্তানকে আলাদা স্টেটাস দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। সেখানে আলাদা করে ভোটের প্রস্তুতিও শুরু হয়। কিছু দিন আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গিলগিট বালতিস্তানে ভোটের দাবি মেনে নেয় এবং ভোটের দিন ঘোষণা করে। যদিও করোনার কারণে ভোটের প্রাথমিক সূচি পরিবর্তিত হয়।

রোববার পাক প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৫ তারিখ ওই এলাকায় ভোটের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই এলাকাকে প্রভিনসিয়াল স্টেটাস দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। তারপরেই তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ‘১৯৪৭ সালে যে অ্যাকসেশন চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতে যোগ দিয়েছিল, সেই চুক্তি অনুযায়ী গিলগিট বালতিস্তানও ভারতেরই অংশ। কিন্তু পাকিস্তান তা অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে। ওই অঞ্চলে ভোট করার বা স্টেটাস বদলানোর কোনো অধিকার পাকিস্তানের নেই।’

ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও পাকিস্তান ওই অঞ্চলে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়া, কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভেঙে দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করার পরেই পাকিস্তান গিলগিট বালতিস্তান নিয়ে এত বড় পদক্ষেপ নিল। গত এক বছর ধরে পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে বহু বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। চীন এবং সহযোগী রাষ্ট্র তুরস্ক এবং আরব বিশ্বকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাময়িক সাহায্যও তারা পেয়েছে।

জাতিসংঘে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে চীন। তুরস্ক কাশ্মীর নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্য করেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবভারতের ম্যাপ থেকে কাশ্মীর বাদ দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চ এ বিষয়ে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে ভারত সফল ভাবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বোঝাতে পেরেছে, কাশ্মীর সমস্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পাকিস্তানের সে বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই।

গিলগিট বালতিস্তান নিয়ে সেই অস্ত্রই ব্যবহার করছে পাকিস্তান। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের মন্তব্যের কোনো অধিকার নেই। যদিও ভারত ওই অঞ্চলটিকে পাকিস্তানের অংশ বলতেই রাজি নয়।