আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1030 145633

গোদাগাড়ীতে মোফা কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: রাজশাহীর বহুল আলোচিত ২ নং ওয়ার্ডের ২ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মোফাজ্জল হোসেন (মোফা) কে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে, মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকার কয়েক নারী, পুরুষ, কিশোর, কিশোরী ছাত্র, কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায গোদাগাড়ীর ফিরোজ চত্তরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন এলাকা বাসী। এ মানববন্ধন থেকে বক্তরা জোরালোভাবে বলা হয়েছেন কাউন্সিলর মোফাজ্জল হোসেন (মোফা) কোন মাদক ব্যবসায়ী না,তাকে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে। বিভিন্ন প্লেকার্ড, ব্যানার নিয়ে এলাকা বাসী জড় হন। বিভিন্ন ষোলগান দিতে থাকেন। জনপ্রিয় কাউন্সিলার মোফার বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, তারা আরও বলেন, গত ৬ জুলাই দিবাগত রাত ৩টার দিকে মহিষালবাড়ি মহল্লায় কাউন্সিলর মোফাজ্জল হোসেন মোফার বাড়ির সামনে থেকে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় কাউন্সিলর মোফাজ্জল হোসেন ৭ জুলাই সোমবার গোদাগাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। ওই জিডির সূত্র ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনন্তে হব হবে। তা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেযা হবে বলে জানানো হয়। জিডিতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তারা হলেন- মাদারপুর মহল্লার মৃত মতিউর রহমানের স্ত্রী মুক্তি বেগম (৩৮), আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহিম (২৬), শহিদুল ইসলামের ছেলে জয় (২২) এবং মিনা খাতুনের ছেলে নিরব আলী (২০)। তারা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে কাউন্সিলর জিডিতে উল্লেখ করেছিলেন । গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলও এদের নাম বলেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে দুইজন কাউন্সিলর মোফাজ্জলের বাড়ির ছাদে উঠে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ওপর স্কচটেপ মেরে দিচ্ছিলেন। আর বাড়ির সামনে পাহারায় ছিলেন সোহেল। প্রতিবেশি এক ব্যক্তি রাতে বাড়ির বাইরে গিয়ে এসব দেখতে পান। এ সময় তিনি সোহেলকে জাপটে ধরেন। তখন ছাদ থেকে লাফ দিয়ে অন্য দুইজন পালিয়ে যান। এরপর রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আটক সোহেলকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন সোমবার দুপুরে তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ এমরানুল হকের সামনে হাজির করা হলে সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমরানুল হক তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠিযেছিলেন।

কাউন্সিলর মোফাজ্জল হোসেন মোফা বলেছিলেন, সম্প্রতি নিরবের মা মিনা খাতুন তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এরপর থেকেই তিনি তাকে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আতঙ্কে গেল শুক্রবার তিনি বাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসান। এরপর রাতে মিনারই লোকজন তার বাড়িতে মাদকদ্রব্য ফেলতে গিয়েছিল। সিসি ক্যামেরা দেখে তারা প্রথমে সেটির ওপর স্কচটেপ বসাচ্ছিল। তখনই এলাকাবাসী একজনকে আটক করে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ে অন্য দুইজন পালিয়ে যায়।
কাউন্সিলর মোফাজ্জল তার জিডিতে উল্লেখ করেছিলেন, তার বাড়িতে মাদকদ্রব্য ফেলে দেয়ার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও মিনা, মুক্তি, রহিম, জয় ও নিরব তাকে হুমকি দিয়েছেন, যে কোন মূহুর্তে তাকে ফাঁসানো হবে। এতে তিনি আতঙ্কিত। তিনি অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিনার বাড়ি ময়মনসিংহ। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ময়মনসিংহে তার নামে মাদকের মামলা আছে। মাদক ব্যবসার সুবাদেই গোদাগাড়ীতে তার বিয়ে হয়। মিনার ভাই মুন্না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আরেক অভিযুক্ত মুক্তির স্বামীও গোদাগাড়ীতে নিহত হয়েছেন বন্দুকযুদ্ধে। স্বামীর মৃত্যুর পর মুক্তি নিজেই এখন সামলাচ্ছেন মাদকের কারবার বলে জিডিতে উল্লেখ করেছিলেন।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, যাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি হয়েছে তারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু মাদকসহ তাদের হাতেনাতে আটক করা যায় না। কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে একজন আটক হলেও তার কাছে মাদক পাওয়া যায়নি। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কাছে হেরোইন ছিল। কাউন্সিলরও তা দাবি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধান করছে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি মানববন্ধন সম্পর্কে বলেন, আমরা জানার পরে পুলিশ পাঠিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য পূর্ব অনুমতি নিতে হয়, সেটা ছিল না।