আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

resize 2

গৌরীপুর ‘অনন্ত সাগর’ পাড়ে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘গণপাঠাগার’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: শতবর্ষী প্রাচীন দিঘিটির নাম ‘অনন্ত সাগর’। এর অবস্থান ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে। দিঘির পশ্চিম পাড়ে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। পূর্ব পাড়ে গৌরীপুর গণ পাঠাগার।করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে পাঠাগার। প্রতিদিন বিকাল হতেই জ্ঞান পিপাসু মানুষ ভিড় করে পাঠাগারে।

 

জ্ঞান আহরণের আড্ডা চলে রাত পর্যন্ত। স¤প্রতি নগর পরিকল্পনার আওতায় পাঠাগারের সামনে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মিনিপার্ক। ফলে স্থানটি এখন জ্ঞান পিপাসু, দর্শনার্থী ও শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দূষণ ও ভাঙনের কবলে পড়ে অনন্ত সাগর পাড়ের সৌন্দর্য ¤øান হতে চলছিল।

 

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে এখানে পাঠাগার ও মিনিপার্ক প্রতিষ্ঠার পর পাল্টে যায় চিত্র।বিকাল হলে অনন্তসাগর পাড় ঘুরে দেখা যায়, পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়।

 

আনন্দে মেতে উঠেছে শিশুরা। মনোরম পরিবেশে কেউ কেউ ব্যস্ত হয়েছে ছবি তোলার প্রতিযোগিতায়। দর্শনার্থী ও বইপ্রেমী মানুষ পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পার্কে বসে বই পড়ায় মগ্ন।

 

সেখানে বই পড়তে দেখা গেল কয়েকজন নারীকেও। জ্ঞান আহরণের ফাঁকে তাদের মধ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে বিষয় ভিত্তিক নানা বিষয়ে।স্থানীয় শিক্ষার্থী চায়না রানী সরকার বলেন, পাঠ্য বইয়ের বাইরে জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠাগারে বই পড়তে আসি।

 

দৈনিন্দন জীবনে পাঠ্যভ্যাসের চর্চা যখন কমে যাচ্ছে তখন এই পাঠাগার পাঠক তৈরি করে সমাজে আলো ছড়াচ্ছে।গৌরীপুর পৌর শহরে বিভিন্ন সময় পাঠাগার গড়ে উঠলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

এই অবস্থায় অধ্যাপক আরশাদ আলী, প্রাবন্ধিক রণজিৎ কর, মুক্তিযোদ্ধা শাহ আব্দুল লতিফ, সত্যেন দাস ও সাংবাদিক রইছ উদ্দিন পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

 

পরবর্তীতে মেয়র রফিক ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনন্ত সাগরের পূর্ব পাড়ে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করে গৌরীপুর গণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।পাঠাগারে মুক্তিযুদ্ধ, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সঙ্গীত, ধর্ম, দর্শন, শিশু সাহিত্য সহ প্রায় সাড়ে সাতশ বই রয়েছে।

 

প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত পাঠাগার খোলা থাকে। বই পড়ার পাশাপাশি এখানে সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ রয়েছে।পাঠাগারের নির্বাহী পরিচালক প্রাবন্ধিক রণজিৎ কর বলেন, পাঠাগারটিকে সমৃদ্ধ করতে আরো বই ও আসবাবপত্র প্রয়োজন।

 

শিক্ষানুরাগীরা সহযোগিতার হাত বাড়ালে পাঠাগারটি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি যেখানে পাঠাগার গড়ে উঠেছে সেই জমিটুকু যেন পাঠাগারের নামে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়।

 

পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে পাঠাগারটি আধুনিক করার পরিকল্পনা আছে। বিনোদন সুবিধা বাড়াতে পার্ক ঘিরেও কিছু কাজের পরিকল্পনা আছে।

 

পার্কটি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ রাসেলের নামকরণে নামকরণ করা হবে।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবিদুর রহমান বলেন, পাঠাগারের জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন। জমি বরাদ্দ পেতে ওই দফতরে আবেদন করতে হবে। এখান থেকে বরাদ্দের সুযোগ নেই।