আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

171506ekattor ghatok dalal nirmul

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদ

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃগত ২৪ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদ অধিবেশনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতি কদর্য ভাষায় বিষোদগার করে যেভাবে নির্মূল কমিটি নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

সোমবার সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, মুক্তিযোদ্ধা কলাম লেখক সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপি সংসদের ধারাবিবরণী থেকে এ ধরনের অসংসদীয়, কদর্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয় ‘কাজী ফিরোজ রশীদ বাংলাদেশে বাস করেও কারা, কী উদ্দেশ্যে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠন করেছেন তিনি যদি তা না জানেন সেটা চরম মূর্খতারই পরিচায়ক। ‘নির্মূল’ শব্দকে নিয়ে তিনি ’৭১-এর ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধীদের ভাষায় বিদ্রূপ করে আমাদের প্রকারান্তরে হত্যাকারী বলেছেন। দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা এই নামটি নির্ধারণ করেছিলেন ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির মূল উৎপাটনের জন্য, কাউকে কায়িকভাবে হত্যা করার জন্য নয়। জাতীয় পার্টি সংবিধান হত্যা করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, জনতা হত্যা করে ৯ বছরের স্বৈরশাসন অব্যাহত রেখেছিল, এ ইতিহাস জাতির অজানা নয়। ’৭১-এর ঘাতকদের মন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর অসাম্প্রদায়িক মানবিক সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ যুক্ত করে দেশ ও জাতিকে পাকিস্তানের মতো সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং অমুসলিম নাগরিকদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ও মর্যাদা হরণ করে জাতীয় পার্টি ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদান যেভাবে লাঞ্ছিত করেছে, দেশ ও জাতিবিরোধী এই ঘৃণ্য অপরাধের দায় জাতীয় পার্টিকে ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত বহন করতে হবে।’

প্রতিবাদলিপিতে আরো বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে নির্মূল কমিটি যখন ’৭১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য দেশে ও বিদেশে ৩০ লক্ষ গণস্বাক্ষর সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে তখন থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী গণহত্যাকারীদের দল এবং তাদের পুনর্বাসনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্মূল কমিটির প্রতি যে বিষোদগার আরম্ভ করেছে, গতকাল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ একই ভাষায় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের মূল্যে অর্জিত মহান জাতীয় সংসদকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বেছে নিয়েছেন যেখানে নির্মূল কমিটির কোন প্রতিনিধি ছিলেন না। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক মাননীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা গত ৩০ বছরে বহুবার নির্মূল কমিটির মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন। নির্মূল কমিটির আন্দোলনের কারণে ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচার আরম্ভ হয়েছে। নির্মূল কমিটির দাবির কারণে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত ২০১৭ সালের মার্চে আমাদের মহান জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আমরা যখন বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উদ্যোগ নিয়েছি তখন কাজী ফিরোজ রশীদ কাদের তুষ্ট করার জন্য নির্মূল কমিটির প্রতি বিষোদগার করছেন সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ৭১-এর ঘাতক, দালাল, রাজাকার ও নব্য রাজাকারদের বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ ও সমাজ গড়ার আন্দোলন আমরা গত ৩০ বছর যেভাবে পরিচালনা করেছি, আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আবার পুনঃস্থাপিত হবে এবং মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’