আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১৯ 3

চট্টগ্রামে আবারো দুইশ’র বেশি করোনায় আক্রান্ত

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারো দুইশ’র বেশি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে তিনবার এ সংখ্যা দুইশ’ অতিক্রম করলো।

বৃহস্পতিবার ১৭৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২০৬ জন পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হন। সংক্রমণ হার ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে করোনাক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৪২ জন আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন গত ২৩ নভেম্বর। গত ২৬ নভেম্বর ২২৩ জন জীবাণুবাহক চিহ্নিত হন। শীত মৌসুমের শুরুতে সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান এ ধারায় এর আগে ১৯ নভেম্বর ১৯৭ জন, ২৪ নভেম্বর ১৮৩ জন, ১৬ নভেম্বর ১৮১ জন, ১৮ নভেম্বর ১৭৮ জন, ১৯ নভেম্বর ১৬১ জন ও ১৭ নভেম্বর ১৫৭ জন করোনাক্রান্ত শনাক্ত হন। তবে গত ২৫ নভেম্বর (১০৬ জন) ও ২২ নভেম্বর (৬৪ জন) শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কম ছিল। গত পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ হার ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ছিল ২৩ নভেম্বর।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরীর ছয়টি ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ১ হাজার ৭৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন আক্রান্ত ২০৬ জনের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ১৭৪ জন এবং আট উপজেলার ৩২ জন। জেলায় মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ২৪ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে শহরের ১৮ হাজার ৪৬০ জন ও গ্রামের ৬ হাজার ১৪৪ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে হাটহাজারীত ১২ জন, পটিয়ায় ৬ ও রাউজানে ৫ জন, ফটিকছড়িতে ৪ জন, আনেয়ারায় ২ জন এবং মিরসরাই, লোহাগাড়া ও বাঁশখাালীতে ১ জন করে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে করোনাক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। মৃতের সংখ্যা ৩১৮ জনই রয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ২১৩ জন ও বিভিন্ন উপজেলার গ ৯৫ জন। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৩৪ জন। মোট আরোগ্য লাভকারীর সংখ্যা এখন ২১ হাজার ৮৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ৩ হাজার ৪৭৬ জন এবং হোম আইসোলেশেনে থেকে ১৭ হাজার ৬০৭ জন। হোম আইসোলেশনে নতুন যুক্ত হন ৩৬ জন ও ছাড়পত্র নেন ২৫ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ১ হাজার ২৫৬ জন।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, এদিন সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে। এখানে ৯৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জন জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ৩৫১ টি নমুনার ৮৩ টিতে ভাইরাস পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ৯৮ জনের মধ্যে ৩৭ জন করোনাক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হন। নগরীর একমাত্র বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএলে ১০ জনের নমুনার মধ্যে ৯ জনের নমুনা পজিটিভ প্রমাণিত হয়।

নগরীর বেসরকারি তিন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ১১৭ নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জন ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৯৪ নমুনায় ৪২ জন করোনাক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এছাড়া, চট্টগ্রামের ১৭০টি নমুনা এদিন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় একটি ছাড়া বাকী সবগুলোরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে বিআইটিআইডি’তে ২ দশমিক ৭৬, সিভাসু’তে ২৩ দশমিক ৬৪, চবি’তে ৩৭ দশমিক ৭৫, শেভরনে ৬ দশমিক ৮৪, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়। এছাড়া আরটিআরএলে ৯০ শতাংশ এবং কক্সবাজার মেডিকেলে শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ হার রেকর্ড করা হয়।