আজ ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১৯ 2

চট্টগ্রামে আরও ৯০ জনের করোনা শনাক্ত

প্রথমবার্তা,প্রতিবেদক :চট্টগ্রামে নতুন আরো ৯০ জন করোনারভাইরাস বাহক শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ সময়ে করোনাআক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।

 

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়, চট্টগ্রামের আট ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে গতকাল রোববার ৯৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শহরের ৮০ জনসহ ৯০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। ফলে জেলায় মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ১৯ হাজার ৬৪৮ জন।

 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি আজ বাসস’কে বলেন, ‘সংক্রমণের হার আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে সারাদেশের গড় হারের তুলনায় এখনও কম।

 

হাসপাতালে ভর্তির হারও অনেক কম। এতে আমরা অনুমান করি, সংক্রমিতরা বাসায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। শুধু জটিল রোগীগুলোই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ সময়ে সুস্থতার হার ৮০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এসব অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক দিক।’

 

সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত ও কোভিডের চরিত্র বিশ্লেষণে বলা যায়, শীতকালে এর প্রকোপ কিছুটা বাড়তে পারে। অক্টোবর শীতের জন্মমাস বলা হলেও এখনও তাপমাত্রা বেশি আছে।

 

আমাদের চোখ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে। সে সময়ে কিছুটা বাড়লেও জানুয়ারিতে আবার কমে যাবে। এখন আমাদের সম্মিলিত চেষ্টা থাকতে হবে শীতের সময়টুকুতে সংক্রমণ যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রণে রাখার। একমাত্র স্বাস্থ্যবিধিই পারে কোভিড-১৯ সংক্রমণের লাগামকে টেনে ধরতে।’

উল্লেখ্য, গতকাল ২৪ ঘণ্টায় সারদেশে ৯ হাজার ৪৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১১৯৩ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

 

অন্যদিকে চট্টগ্রামে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হার গড়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ শতাংশের ওপরেই অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ১০ অক্টেবর ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে, যা সাম্প্রতিককালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে জানা যায়, গতকাল সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয় ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে।

 

এখানে ৩৭৫ জনের নমুনায় ২০ জন করোনাক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৩১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলে।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ৮৩ টি নমুনার মধ্যে ১২টিতে ভাইরাস পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ৩২ জনের নমুনায় ৬ জন জীবাণুবাহক বলে শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবে (আরটিআরএল) ৪টি নমুনা পরীক্ষায় একটির রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

 

নগরীর বেসরকারি তিন ল্যাবের মধ্যে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১০৪, শেভরনে ৩২ এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে যথাক্রমে ১৮ জন, ১০ জন ও ৪ জনের নমুনায় করোনা ভাইরাস থাকার প্রমাণ মেলে। এদিন চট্টগ্রামের ৫টি নমুনা কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। এর সবক’টির রিপোর্টই নেগেটিভ আসে। সূত্র: বাসস