আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

54008931 303

চমকে ভরা ইউরোপের অভিনব মিনিয়েচার মিউজিয়ম

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:ফ্রান্সের এক শিল্পী বেশ কিছু বাস্তব দৃশ্যের প্রায় হুবহু ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি করে দর্শকদের বিস্মিত করে চলেছেন৷ এমনকি এমন শিল্পকর্ম নিয়ে আস্ত একটা মিউজিয়াম তৈরি করেছেন তিনি৷ এক একটি দৃশ্য তৈরি করতে এক বছরও সময় লেগে যায়৷ খবর ডয়চে ভেলে’র।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মাক্সিম রেস্তোরাঁ বিশ্ববিখ্যাত৷ কিন্তু সেখানে টেবিল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিচারক বা গ্রাহক চোখে পড়ছে না কেন? কারণ এই রেস্তোরাঁ আসলে ডান ওলমানের তৈরি মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র সংস্করণ৷ এক বছর ধরে হাতে করে তিনি সেটি তৈরি করেছেন৷ ওলমান মনে করিয়ে দেন, ‘‘বহু শতাব্দী ধরে মিনিয়েচার সংস্করণ তৈরির ঐতিহ্য চলে আসছে৷ এমনকি মিশরের পিরামিডেরও এমন সংস্করণ ছিল৷ সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতেও তথাকথিত মিনিয়েচার পেন্টিং-এর মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হতো৷ এই শিল্পশাখা আসলে জীবনেরই প্রতিফলন৷ এক ধরনের পেন্টিং হলেও সেটি ত্রিমাত্রিক৷”

এককালে কাঠের মিস্ত্রি ও ইন্টিরিয়র ডেকরেটর হিসেবে কাজ করলেও গত শতাব্দীর আশির দশকে তিনি থিয়েটার ও অপেরার জন্য মঞ্চসজ্জা তৈরির কাজ শুরু করেন৷ সেই লক্ষ্যে তাঁকে ছোট আকারের মডেল তৈরি করতে হতো৷ সেই কাজ থেকে প্রেরণা পেয়ে তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে মিনিয়েচার তৈরি করে চলেছেন৷

লোকচক্ষুর আড়ালে ডান ওলমান নিত্যনতুন সৃষ্টির কাজে মেতে থাকেন৷ নিখুঁত পরিমাপ বজায় রেখে মিনিয়েচার সৃষ্টি করতে তাঁকে বেশ কয়েক মাস ধরে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়৷ তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টি আসল দৃশ্যের হুবহু নকল৷ সব বৈশিষ্ট্য নথিভুক্ত করে তিনি ১২ গুণ ছোট সংস্করণ তৈরি করেন৷ সেই কাজে পরিশ্রম সম্পর্কে ডান বলেন, ‘‘কখনো শুধু চেয়ার তৈরি করতেই আমার এক মাস সময় লেগে যায়৷ প্রায়ই নতুন করে অনেক কিছু করতে হয়৷ তবে চাপ সত্ত্বেও বেশ সন্তুষ্টি পাওয়া যায়৷ অনেক ধৈর্য্যের প্রয়োজন হয়৷ কিছুটা সাহস সম্বল করে লেগে থাকতে হয়৷ শেষ পর্যন্ত কাজ হয়ে গেলে মন আনন্দে ভরে যায়৷ কখনো কাজ শেষ করতে এক বছরও সময় লাগে৷”

২০০৫ সালে ডান ওলমান লিয়ঁ শহরের পুরানো অংশে নিজের মিনিয়েচার মিউজিয়াম খোলেন৷ ১৯৮৯ সালে তিনি প্রথমবার নিজের শিল্পকর্ম ভরা তিনটি ট্রাকে করে সেখানে এসেছিলেন৷ দুই সপ্তাহের প্রদর্শনীতে যোগ দিতে এসে ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরের প্রেমে পড়ে যান তিনি৷ ডান বলেন, ‘‘সারা বছর ধরে আমার লিঁয় শহরের পুরানো অংশে থাকার সৌভাগ্য হয়৷ মধ্যযুগীয় এই এলাকা সত্যি অসাধারণ৷ ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় সেটি স্থান পেয়েছে৷ চোখে দেখলেই বোঝা যায় কত সুন্দর৷ অনেকটা মিনিয়েচারের মতো৷”

প্রায় দুই হাজার বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে দর্শকরা ইউরোপের অনেক মিনিয়েচার শিল্পীর তৈরি একশোটিরও বেশি দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন৷ তবে বেশিরভাগ শিল্পকর্ম স্বয়ং ডান ওলমানের তৈরি৷