আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চীন না কমালে ভারতও সীমান্তে সেনা কমাবে না : রাজনাথ

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) মোতায়েন চীনা সেনার সংখ্যা কমানো না হলে ভারতও একতরফাভাবে সেনা কমাবে না। শনিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র।

তিনি আরও বলেছেন, চীন কয়েকটি ক্ষেত্রে আপত্তি তুললেও ভারত দ্রুত গতিতে সীমান্ত অঞ্চলে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চালাচ্ছে।

গত বছর মে মাসে পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন এলাকায় চীনা সেনাদের এলএসি লঙ্ঘনের ঘটনা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সামরিক পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠকের পরেও সংকট কাটেনি। গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। চীনের তরফে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল আরও বেশি। এর পরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ‘মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া’ এবং ‘সেনা সংখ্যা কমানো’- র বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। গত ৫ জুলাই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকে লাদাখে পর্যায়ক্রমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঐকমত্য হয়।

ভারতীয় সেনা সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, এলএসি-র কিছু অংশে তা এই সমঝোতা কার্যকর হলেও প্যাংগং হ্রদের উত্তর প্রান্তের ফিঙ্গার এরিয়াসহ বেশ অনেকগুলো অঞ্চলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র অবস্থান এলএসি-র এ পারে। এই আবহে গত ১৫ জানুয়ারি সশস্ত্রবাহিনীর পঞ্চম ‘ভেটেরানস ডে’ উপলক্ষে বিমানবাহিনীর সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনাথ বলেছিলেন, ‘ভারত যুদ্ধ চায় না। কিন্তু দেশের গৌরবহানি হলে যত বড় সুপার পাওয়ারই হোক না কেন, উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর।’

এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, লাদাখ সীমান্তে গত ৯ মাস ধরে চলা সংঘাতের ইতি কবে ঘটবে, তা বলা সম্ভব নয়। তার কথায়, ‘আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে বিশ্বাসী। কিন্তু বিষয়টি নিরবচ্ছিন্ন স্তবিরতার মতো। নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বা তারিখ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।’

লাদাখে বেইজিং বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বলেও অভিযোগ করেন রাজনাথ।

সম্প্রতি একটি উপগ্রহ চিত্রে দাবি করা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলায় এলএসি লঙ্ঘন করে আস্ত একটি গ্রাম বানিয়েছে চীন। এ প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, ‘সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে পরিকাঠামো তৈরি করেছে চীন।’

আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ নিরসনে নয়াদিল্লির সদিচ্ছার কথা জানাতে গিয়ে রাজনাথ শুক্রবার বলেন, ১৯ জানুয়ারি সেনা পর্যায়ের একটি বৈঠকের জন্য চীন প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত বৈঠকের আগের দিন সে কথা জানানোয় আমরা বলি, বৈঠক পিছিয়ে ২৩ বা ২৪ জানুয়ারি করার জন্য।’