আজ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চোখ

চোখের ডাক্তারের কাছে যান উন্নয়ন না দেখলে: প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ সরকারের উন্নয়ন যারা দেখে না তাদের চোখের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অনেকে আছে দেশে কোনও উন্নতি দেখে না। তাদের চোখে কোনও উন্নয়নই নাকি দেশে হয়নি। তাদের যদি চোখ খারাপ থাকে আমার কিছু বলার নেই।

 

এখন বলতে হয় আমরা তো একটি আই ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। যারা বক্তৃতা দেয় উন্নয়ন হয় না, চোখে দেখে না আমার মনে হয় তাদের চোখ একটু পরীক্ষা করা দরকার।

 

তাহলে হয়তো দেখতে পারে উন্নয়ন হয়েছে কী না?’ রোববার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

 

সরকারের উন্নয়নের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। শতভাগ বিদ্যুৎ, ডিজিটাল বাংলাদেশ- তারা দেখে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ তো বিদ্যুৎ ছাড়া চলতে পারে না।

 

আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ তারাও ব্যবহার করছে। আজ পদ্মা সেতু প্রায় শেষের পথে। মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এগুলি চোখে পড়ে না। এগুলি উন্নয়নের লক্ষণ নয়!

 

তিনি বলেন, দেশের দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, সেই উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি- এটাও তাদের চোখে উন্নয়ন নয়। অবশ্য এটা না-ও হতে পারে। তাদের যদি চোখ খারাপ থাকে কিছু বলারও নেই।

 

আর তারা উন্নয়ন কেন দেখে না সেটা হচ্ছে, দেখার ইচ্ছে নাই তাই দেখে না। কিন্তু সরকার উন্নয়নের যে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুপরিকল্পিভাবে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন কাদের মুখে গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয় সেটাই বড় কথা।

 

যাদের জন্ম হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে, তারাই এখন গণতন্ত্রের কথা বলেন! আর এই অবৈধ সরকার উচ্চআদালত থেকেই নির্দেশ দিয়েছে। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ক্ষমতা দখল ছিল অবৈধ।

 

কারণ তারা সংবিধান লংঘন করে, এমনিক সামরিক আইন ভঙ্গ করে নিজেদের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে তারপরে আবার সেই হ্যাঁ-না ভোট! এরপর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তারপর আবার দল গঠন, পরে রাজনীতিতে অবতরণ করা- এভাবেই তাদের জন্ম।

 

তিনি বলেন, তারা আসেন রাজনীতিবিদদের গালি দিয়ে। পরে আবার নিজেরাই উর্দি খুলে রাজনীতিবিদ হয়ে যান। সেই ধরনের ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে অবৈধভাবে বিএনপির জন্ম।

 

বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন জিয়াউর রহমান। যে জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান থেকেও ক্ষমতা দখল করে রাজনীতিবিদ হয়েছিলেন। ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর একে একে প্রায় ১৯ থেকে ২০টা ক্যু হয়েছে।

 

সেই ক্যুতে হাজার হাজার সোমরিক বাহিনীর অফিসার-সৈনিকদের যারা হত্যা করেছে। ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে জিয়াউরর রহমান আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন।

 

কত পরিবার তাদের আপনজনের লাশটিও পায়নি। তাদের কাছ থেকে এখন গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হবে! স্বৈরশাসকদের কবল থেকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’- এই স্লোগান তো আওয়ামী লীগের, আমরা দিয়েছি।

 

জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য স্লোগান দিয়েই সংগ্রাম করে, আজ গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে আওয়ামী লীগই ফিরিয়ে এনেছে।

 

যে গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিল, জিয়া বা এরশাদের পকেটে ছিল এবং খালেদা জিয়ার আঁচলের তলে ছিল- সেটাকে আমরা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আজকে জনগণের ক্ষমতায়ন করেছি।

 

সেখানে যদি বিএনপির নেতারা এখন গণতন্ত্র না দেখেন, উন্নয়ন না দেখেন- তাহলে তো বলার কিছু থাকে না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরে দুঃশাসনের পাশাপাশি সার ও বিদ্যুতের জন্য কৃষকদের দাবির আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে জীবন দেয়ার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শ্রমিকদের বেতনভাতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে সেটা বাস্তবায়নও করেছে।

 

অথচ এই শ্রমিকরা মজুরি চেয়ে যখন আন্দোলন করেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমজান মাসে ১৭ সতের জন শ্রমিককেও গুলি করে হত্যা করেছিল তারা। একথা মনে হয় বারবার মনে করিয়ে দেয়া উচিত।

 

একইসঙ্গে ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলে বিদেশ থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে না’- বিএনপির মন্ত্রীসহ খালেদা জিয়ার অতীতের এমন মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় তার জবাবে বলেছিলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না।

 

তাই আমরা ভিক্ষুক জাতি হিসাবে থাকতে চাই না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাটি এবং মানুষকে দিয়েই আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম।

 

আমরা ভিক্ষুক জাতি হয়ে থাকব না। কারো কাছে হাত পেতে চলব না এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই আমরা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের এখন প্রায় ৯০ ভাগের ওপর নিজেদের অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করতে পারি।

 

পদ্মা সেতুর যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, সেটা করেই আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি ‘হ্যাঁবাংলাদেশ নিজে পারে’। তিনি বলেন, মানুষের খাদ্য ও জীবন-জীবিকার চাহিদা পূরণ করাই তার সরকারের লক্ষ্য।

 

সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা। এখন একদিকে করোনার ধাক্কা, অপরদিকে যুদ্ধাবস্থা- সবকিছু মিলিয়ে খাদ্যের অভাব সারাবিশ্বেই দেখা দিতে পারে। সেজন্য আমাদের নিজেদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

যার জন্য সবাইকে আহ্বান করেছি, কোথাও যেন এক ইঞ্চি জমি অনাবাদী না থাকে। যার যেটুকু আছে সেটুকুতেই উৎপাদন করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজ যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে উন্নয়নটা হচ্ছে- সেটা তাদের চোখে পড়বে না।

 

বিএনপি বিআরটিসি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। অথছ বিআরটিসিতে সাধারণ মানুষ চলে। এটা নাকি লাভজনক নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বলেছিল, লাভ-লোকসান বড় কথা নয়। মানুষ চলাচল করবে স্বল্পমূল্যে সেটাই বড় কথা।

 

মানুষের সেবা দেব এবং আমরা এটা চালু রাখি। বিএনপির আমলে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তার আমলে নতুন নতুন রেলপথ সম্প্রসারণ এবং নদী ড্রেজিং করে নৌপথ সচল করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শুরু করে নানা সংকটে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দিক তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই, মানুষের জন্য কাজ করি।

 

মাটি ও মানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, মিথ্যা কথা বলায় তারা এক্সপার্ট। তাদের সাথে আমরা পারব না।

 

আর তারা ভাঙ্গা রেকর্ডের মত বলেই যাচ্ছে। অবশ্য ভাঙ্গা রেকর্ড এখন আর কেউ চিনবে না। এখন তো আর সব ডিজিটাল। আগের মত তো আর নেই। তারা কিন্তু একটার পর একটা মিথ্যা কথা বলেই যাচ্ছে।

 

টানা তিন মেয়াদে দেশ ও মানুষের কল্যাণে তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

 

বিশ্বের কাছে এখন বাংলাদেশকে ভিক্ষা চেয়ে চলতে হয় না। বাঙালিদের মাথানত করে চলতে হয় না। আমরা প্রত্যেকের ঘর আলোকিত করার ঘোষণা দিয়েছিলাম।

 

আমরা সেটা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি গ্রামে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী। গণভবন প্রান্তে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।