আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

030619Cold kalerkantho pic

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কমছে শীত

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’। কিন্তু এবার মাঘ মাস শুরু হলেও সেই শীতের দেখা মিলছে না। দেশের কোথাও কোথাও মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও রাজধানী ঢাকাসহ বেশির ভাগ এলাকায় খুব একটা শীতের প্রকোপ নেই। আর পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল মূলত গরমের আবহ। ফলে উত্তরাঞ্চল ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষ আগের মতো হাড় কাঁপানো শীত প্রায় ভুলতেই বসেছে।

কেন শীত কমে যাচ্ছে—খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সারা বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রভাবে সারা বিশ্বেই কমে যাচ্ছে শীত।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে সাধারণত নভেম্বর এলেই তাপমাত্রা কমে যেত। কিন্তু এবার বে অব বেঙ্গলে নভেম্বরে তিনটি সাইক্লোন ছিল। এর একটিও বাংলাদেশে না এলেও সেখান থেকে গরম বাতাস ঠিকই ঢুকেছে। এরপর ডিসেম্বরে দুটি শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আর জানুয়ারিতে বর্তমানে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পশ্চিমা লঘুচাপ চলছে। এতে ঠাণ্ডা বাতাস আসতে পারছে না। শীতও তেমনভাবে পড়ছে না। এই অবস্থা শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বে। মূলত ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো।’

ঢাকায় শীত বেশি না হওয়ার কারণ জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘ঢাকা মূলত ওভার পপুলেটেড শহর। এখানে অসংখ্য ভবন, মানুষের গাদাগাদি। স্বাভাবিকভাবেই দেশের অন্য জায়গার চেয়ে এখানে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশি থাকে। ফলে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ না এলে শীতের প্রকোপ অত বেশি থাকে না।’

আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি পর্যন্ত নামলেও এই মৌসুমে এখনো সেখানে আসেনি সেই তাপমাত্রা। আসার সম্ভাবনাও কম। দু-একটি এলাকায় এবার তাপমাত্রা কম থাকলেও তা সারা দেশের চিত্র নয়।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সাধারণত তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং এর নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। গতকাল নওগাঁর বদলগাছীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিন দিন থেকেই এমন আবহাওয়া বইছে জেলাজুড়ে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন থাকতে পারে। এদিকে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৩, ময়মনসিংহে ৯.৮, চট্টগ্রামে ১৫.৪, সিলেটে ১২.৫, রাজশাহীতে ৯, রংপুরে ১০.৩, খুলনায় ১৩ এবং বরিশালে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। এ ছাড়া আবহাওয়াবিদরা জানান, চলতি শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ফের তাপমাত্রা বাড়বে। চলতি মাসে সাধারণত শীত থাকলেও শৈত্যপ্রবাহ চলমান এলাকার বাইরে খুব বেশি জায়গায় ছড়াবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য