আজ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

1

এবার বদলি নিয়ে সুখবর পেলেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু শুরু করতে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। ২০২১ সাল থেকে সারা বছর আবেদনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই বদলি কার্যক্রম। পদ্ধতিটি চালু হলে শিক্ষকদের আর স্থানীয় শিক্ষা অফিস, অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের দৌড়াতে হবে না।

 

শিক্ষক বদলিতে ঘুষ লেনদেন ও তদবির ঠেকাতে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করার সফটওয়্যারের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ রতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে অনলাইনে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

সূত্র মতে, চলতি বছর অনলাইনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত সফটওয়্যারে নতুন বিষয়গুলো ইনপুট দেয়া নিয়ে বদলি কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার সময়ই অবসরে যান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। এতে নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে কিছু বদলি করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়।

জানা গেছে, শিক্ষক বদলি নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বদলি কর্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একটি সফটওয়্যার তৈরি করে এর মাধ্যমে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সফটওয়্যার তৈরির কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও ডিপিই’র মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

এতে কিছু ত্রুটি ধরা পড়লে সেগুলো সংশোধন করতে বলা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সকল কাজ শেষ হলে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম অনলাইনের আওতায় করা সম্ভব হবে।

 

জানতে চাইলে ডিপিইর মহাপরিচালক এ এম মনসুর আলম বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সফটওয়্যারের কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সকল কাজ শেষ হলে আগামী বছর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে।’

 

প্রসঙ্গত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম জানুয়ারিতে শুরু হয়, চলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিবছর এই বদলি নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বদলির সময় অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দালালরা শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আগে থেকেই অনলাইনে শিক্ষক বদলির উদ্যোগ নেয়া হয়।