আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

194358427 1

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ মেধাবী পেলেন ভাইস চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ড

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সেরা ফলাফলধারী ৩০ শিক্ষার্থীকে প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ড (স্বর্ণপদক) প্রদান করা হয়েছে। এওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতক (সম্মান) কোর্সে রয়েছেন ২৬ জন আর স্নাতক (পাস) কোর্সে ৪ জন। স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জনই ছাত্রী। আর মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থদ্বয় থেকে যা শিক্ষণীয়’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ জনকে নগদ অর্থ ও সনদ দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জুম অ্যাপসের মাধ্যমে আযোজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ভাইস চ্যান্সেলর এওয়ার্ডপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক ও সনদ তুলে দেন। আর রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ ও সনদ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে দুজন কৃতী শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ড (স্বর্ণপদক) প্রবর্তন করেছে। আমাদের সবাইকে এই অনুষ্ঠান অনুপ্রাণিত করেছে। এখন থেকে প্রতিবছরই এই এওয়ার্ড প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে যে বই দুইটি নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে সে বই দুটি শুধু আত্মজীবনীমূলক বই নয়, একজন ভাল মানুষ হিসেবে তৈরি হতে হলে বইগুলো পড়ার বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর লেখা তিনটি বই আকর গ্রন্থ। এই বইগুলো আমাদের সবার পাঠ্য হওয়া উচিত।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- দীর্ঘ সেশনজট নিরসন, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৩ হাজার ৫০০টি ক্লাশ অনলাইনে আপলোড, শিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে কলেজ পারফরমেন্স র‌্যাংকিং, মডেল কলেজ ও শতবর্ষী কলেজ প্রকল্প, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমসহ নতুন নতুন উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার্থীদের অর্ধসমাপ্ত বা নতুন পরীক্ষা গ্রহণ করেছে, যা খুবই প্রশংসনীয়।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। এওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কলেজসমূহ ছাড়াও অন্যান্য কলেজের অধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট সদস্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মীজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম এ মান্নান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েল উপাচায প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বডির শীর্ষস্থানীয় সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জুম অ্যাপসে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি বলেন, ‘একটি কর্মদক্ষ জনশক্তি তৈরি করার জন্য আমরা শিক্ষাটাকে এগিয়ে নিচ্ছি। আজকের অনুষ্ঠানে মেধাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কায়িকশ্রম নির্ভর পেশায় যুক্ত হতে হবে। আমাদের রিস্কিল এবং আপস্কিল করতে হবে।’

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত আজকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক অবদান রাখছে এবং সাফল্য দেখাচ্ছে। এটি অনেকে আমরা জানি না। না জানার কারণে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আজ আমরা বিশেষ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের জন্য আনন্দের দিন, স্মরণীয় দিন। অনেক জঞ্জাল পরিষ্কার করে আজকে আমরা এই পর্যায়ে এসেছি। শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা তৈরি করতে হবে। তাহলে আমাদের পরিবেশ ও সমাজ পরিশালিত হবে। এই পুরস্কার প্রবর্তনের মাধ্যমে সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঈর্ষণীয় সাফল্য করছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্বমানের করে নিজেদের তৈরি করতে হবে।’

১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ভাইস চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ড প্রবর্তনের কথা থাকলেও এ পর্যন্ত তা প্রদান করা হয়নি। এই প্রথমবার এটি প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাইস-চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ডপ্রাপ্ত (স্বর্ণপদক) স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২৬ শিক্ষার্থী হলেন- সাজেদুর রহমান (রাজশাহী কলেজ), জুঁই সেন (চট্টগ্রাম কলেজ), আবু তাকী (সরকারি আজিজুল হক কলেজ), শাহানাজ আক্তার (সরকারি তোলারাম কলেজ), মোছা. মাহফুজা খাতুন (সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ), তনয়া খানম (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ), তন্ময় বৈদ্য (বরিশাল ব্রজমোহন সরকারি কলেজ), নাওসাবা বুলিয়া (লালমাটিয়া মহিলা কলেজ), প্রিসিলা পারভীন প্রভা (ঢাকা সিটি কলেজ), মোাসা. হাবিবা খাতুন হাসি (রাজশাহী কলেজ), সাদিয়া রহমান (সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ), উজ্জ্বল হোসেন (সরকারি আজিজুল হক কলেজ), তহমিনা আফরোজ বন্ধন (তেজগাঁও কলেজ), মৌসুমী খাতুন (রাজশাহী কলেজ), মাহামুদা আক্তার (সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ), হাসনাত জাহান ইভা (মাদারীপুর সরকারি কলেজ), সম্পা রানী (দিনাজপুর সরকারি কলেজ), মোছা. কুইনআরা (মাগুরা নাজির আহমেদ কলেজ), শোয়েব আহমেদ (বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ), মোসা. মৌসুমী আক্তার (লালমাটিয়া মহিলা কলেজ), তানিয়া নাসরিন (নওগাঁর চৌধুরী চাঁদ মোহাম্মদ মহিলা কলেজ), পূজা দত্ত (গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ), লিমা সিদ্দিক (কুমুদিনী সরকারি কলেজ), তাসনিম আক্তার (সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ), নাছরিন আক্তার (নোয়াখালী সরকারি কলেজ)।