আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

1737125822

জাতীয় স্বার্থে বন্ধ চিনিকল খুলে দিয়ে আধুনিকায়ন করার দাবি

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ বন্ধ চিনিকল দ্রুত খুলে দিয়ে তা আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাকালেই আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিকদের অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পনেরটি চিনিকলের মধ্যে ছয়টি চিনিকল বন্ধ করা হয়েছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে চিনিকলগুলো দ্রুত চালু করতে হবে। সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

রবিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম জোট সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ-এর বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউসিএলবি’র নজরুল ইসলাম, বাসদ (মার্কসবাদী)’র মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চিনিকলের লোকসানের জন্য কৃষক-শ্রমিকদের দায়ি করার কোন সুযোগ নেই। এজন্য দায়ি সরকার ও প্রশাসনের অনিয়ম, ভুলনীতি ও দুর্নীতি। কারণ বিক্রয় মূল্য থেকে উৎপাদন ব্যয় বেশি হলে লোকসান হবে, এটা অর্থনীতির সাধারণ সূত্র। আর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণগুলো হচ্ছে- আখের অপর্যাপ্ত সরবরাহ, অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় একর প্রতি আখের ফলন কম, পুরাতন প্রযুক্তি ও মেশিনের কারণে আখ থেকে চিনি আহরণ হার (রিকভারী রেট) অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় প্রায় অর্ধেক, পণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে উদ্যোগহীনতা, চিনি বিপণনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক হতে না পারা, আখ কেনা থেকে শুরু করে চিনি উৎপাদন ও বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতায় বেড়ে ওঠা পাহাড়সম ব্যাংকঋণ ও তার সুদ, অপ্রয়োজনীয় জনবলের বেতনভাতা প্রভৃতি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাৎসরিক চাহিদা ২০ লাখ টন ধরলে বাংলাদেশে চিনির বাজার হচ্ছে ১৩ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে পাঁচটি বেসরকারি গ্রুপ রিফাইনারি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে পরিশোধন করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে বাজারজাত করছে। এরা আখিচাষিদের কাছ থেকে এক কেজিও আখ কিনবে না। ফলে আখচাষ শেষ হয়ে যাবে। পাঁচ লাখ আখচাষি নিঃস্ব হবে। বাংলাদেশের চিনিখাত হয়ে পড়বে বিদেশনির্ভর। আর তা নিয়ন্ত্রণ করবে চিনি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তাই চিনিকল, পাটকলসহ সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিরাষ্ট্রীয়করণের বিরুদ্ধে সকল বাম-প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।