আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1024 125537 1

জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভারতকে পেছনে ফেলতে বাংলাদেশে করোনা লড়াই ভূমিকা রেখেছে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারতকে মাথাপিছু জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ, যেখানে পাঁচ বছর আগেও ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ২৫ শতাংশ এগিয়ে ছিল।

এই পরিবর্তনে বড় একটি ভূমিকা রেখেছে চলমান মহামারি করোনাভাইরাস। ভারত যখন করোনা নিয়ন্ত্রণে লড়াই করে যাচ্ছে, বাংলাদেশের তথ্যনির্ভর উদ্ভাবনী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন অর্থনীতিকে ক্রমবর্ধমান থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডের (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে৷ আইএমএফ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি চার শতাংশ বেড়ে হতে পারে এক হাজার ৮৮৮ ডলার৷ সেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে হতে পারে এক হাজার ৮৭৭ ডলার৷ অর্থাৎ, এই প্রথম মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের থেকে ১১ ডলার এগিয়ে যেতে পারে৷

স্বাভাবিকভাবেই আইএমএফ-এর এই রিপোর্ট নিয়ে ভারত জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে৷ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেছেন, পাঁচ বছর আগেও যেখানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি ছিল, সেখানে আইএমএফ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে যেতে পারে৷ মোদী সরকারের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার এটাই সবচেয়ে বড় উদাহরণ৷

একটি দেশের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু মুদ্রা, রফতানি এবং শাসনের দিকে নজর দেয়ার পরিবর্তে এখন থেকে জননিরাপত্তা সক্ষমতা ও জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও প্রাধান্য দেয়া হবে। জিডিপি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের এই বড় সাফল্যের ক্ষেত্রে কেবল নিজেদের প্রবৃদ্ধিই অবদান রেখেছে তা নয়, করোনা সংকট মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক ব্যর্থতাও বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে।

মহামারির মধ্যেও একটি দেশ কীভাবে তার অর্থনীতির স্রোতকে স্বাভাবিক রাখতে পারে, তার একটি উদাহরণ চীন। দেশটিতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা এরই মধ্যে মহামারির পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং দেশটির জিডিপি হ্রাস পাওয়ার বদলে ত্রৈমাসিকের শেষ প্রান্তিকে এসে পাঁচ শতাংশ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে চীন শুধুই একটি চূড়ান্ত উদাহরণ। এই দেশটি ছাড়াও বিশ্বে আরও অনেক দেশ আছে যারা চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসকে সফলভাবে সামাল দিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখেছে এবং এই দেশগুলোর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো অনেক কিছু শিখতে এবং ভুলত্রুটি এড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক কৌশিক বসু বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন৷ একই সঙ্গে ভারতের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷ বস্তুত, এর আগেও ভারতের চলতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৌশিকবাবু৷

গত ১৭ অক্টোবর দ্য ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি খাতকে পেছনে ফেলে দেশটি এখন অনেক বেশি শিল্প ও সেবা খাতনির্ভর। এই খাতেই তারা এখন লাখ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করছে যার ফলে দেশটি তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত শিল্প খাতকে চাঙা করতে হিমশিম খাচ্ছে আর মানুষ এখনো অনেক বেশি কৃষি খাতনির্ভর। এর বাইরে আরও কিছু সামাজিক সূচকও বাংলাদেশকে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১৮৭৭ ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি তার জিডিপির তুলনায় দ্রুত হারে কমেছে।

১৩ অক্টোবর ‘একটি দীর্ঘ ও কঠিন অগ্রগতি’ শিরোনামে আইএমএফ প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক জানিয়েছে অন্যান্য উদীয়মান দেশের অর্থনীতির মতোই, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।