আজ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

22070348510 e1611690684620

টিকার স্থানে মাত্র ৬ ঘণ্টা ব্যথা ছিল, এরপর সেরে যায়

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ আমি যেদিন টিকা নিয়েছি তার পর দিন আমার স্ত্রী ডা. রীতা আউয়ালও টিকা নিয়েছেন। আমরা দুইজনই ফাইজারের টিকা নিয়েছি। আমার হাতের যেখানে টিকা নিয়েছি সেখানটা ৬ ঘন্টায় পর্যন্ত ছিল। আমার স্ত্রীর ওই ব্যাথা ছিল ৮ ঘন্টা পর্যন্ত। তিনি আয়ারল্যান্ডের গলওয়ে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের গাইনীর চিকিৎসক।

 

আমরা উৎসাহ নিয়েই টিকা নিয়েছি। আমাদের আর কোনোই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়নি। যদিও টিকা দেওয়ার আগে আমাদেরকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি হতে পারে না পারে সেগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমরা দুজনই যেহেতু চিকিত্সক তাই আমরাও সর্তকতার সঙ্গে বুঝেশুনে নিয়েই টিকা দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা আগেই জেনেছিলাম যাদে খুব বেশি মাত্রায় এলার্জি অর্থাৎ যারা জীবনে কখনো না কখনো শুধুমাত্র অ্যালার্জির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন তাদেরকে এই টিকা দেওয়া যাবে না। এছাড়া অন্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মাথা ব্যথা, জ্বর, বমি, গায়ে র‌্যাশ, মাংসপেশীতে ব্যথা, অবসাদও থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের এসবের কিছুই হয়নি। আমরা দিব্যি সুস্থ আছি। যদিও কারো কারো দ্বিতীয় ডোজের সময়ও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। তাও দেখা যাচ্ছে না।

 

আমি একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার করে বলতে পারি সেটা হচ্ছে ফাইজারের চেয়েও অক্সফোর্ডের টিকা আরও সহনশীলতা সম্পন্ন। আরও বেশি কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার। ফলে এই টিকা নিতে কারো কোনো অনাগ্রহ থাকার যুক্তি নেই —যদি তাদের যারা টিকা নিতে পারবে না বলে যে সব জটিল রোগ ও সমস্যাগুলো আগে থেকে রয়েছে সেগুলো না থাকে।

 

আমি নিশ্চিত হয়েই বলছি এবং সবার জেনে রাখা ভাল এই টিকা আবিস্কারের পর প্রথম কাজটিই করা হয়েছে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে। প্রথমে প্রাণীর নিরাপত্তা তার পরেই মানুষের নিরাপত্তা। এর পর অন্য ধাপে এগিয়েছে। মানুষের কোনো প্রাণহানীর আশংকা নেই বলেই ইউরোপিয়ান কমিশনের ড্রাগ অথরোটিরি, যুকবতরাজ্যের ড্রাগ অথরিটি অথবা যুক্তরাস্ট্রের ড্রাগ অথরিটি অনুমোদন দিয়েছে। তারা যতকিছুই হোক মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করে না।

 

তারপরও যেসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে সেগুলো টিকাগ্রহনকারী ব্যক্তির শরীরের আগের কোনো না কোনো জটিলতার যোগসূত্র থাকছে। এছাড় যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বরা হয় তাও মাত্র ১-৩ শতাংশ। আর আমরা তো সবাই জানি এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত টিকা এসেছে সবটিরই কোনো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছেই। তবু আমরা তো সেই টিকা নিচ্ছি। তবে এখন কেনো এই টিকা নিতে আমাদের ভয় কাটাতে পারবো না। লাখ লাখ মানুষ করোনার টিকা দিচ্ছে— কতজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে সেটা কতক্ষন রয়েছে তা খোজ খবর নিলেই ভয় কেটে যাবে।

 

এছাড়া অক্সফোর্ডের টিকার আরও একটি ভাল দিক হচ্ছে আমরা যারা ফাইজারের টিকা নেওয়ার পর ১৫ মিনিট বসে থাকতে হয়েছে নির্দেশনা অনুসারে সেখানে অক্সফোর্ডের টিকা দেওয়া পর ওই ১৫ মিনিটও বসে থাকার দরকার নেই। ফলে নির্ভয়েই এই টিকা দেওয়া যায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সেটি সেরে যাবে—তা মাথায় রাখলেই ভয় কেটে যাবে।

(লেখক: রেজিস্টার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ,