আজ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্প

ট্রাম্পকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক রুশ মেয়ে পাঠানো হতো, ভিডিও ধারণ!

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ ৪০ বছরের বেশি সময় আগে নিজেদের সম্পদ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৈরি করে রাশিয়া। ওই সম্পর্কের ভিত্তিতে লাভবান হতো ট্রাম্প এবং রাশিয়া। নতুন একটি বইয়ে বিস্ফোরক এ দাবি করা হয়েছে।

 

বইটির লেখক ক্রেগ উঙ্গার দাবি করেন, অসংখ্যবার ট্রাম্পকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে রাশিয়া। ট্রাম্পের জন্য পাঠানো হয়েছে হাজার হাজার কোটি রুশ মুদ্রা। ৮০ এবং ৯০ দশকের মধ্যে এসব সহায়তা ট্রাম্প নিজের আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে গ্রহণ করেন। ওই সব অর্থের বিরাট একটা অংশ ট্রাম্পের নামে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগও করেছে মস্কো।

 

উঙ্গার দাবি করেন, ট্রাম্প রুশ নারীদের সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। এতে তাকে সহায়তা করেছে মার্কিন ধনকুবের ট্রাম্পের বন্ধু জেফ্রি এপস্টেইন। তিনি ট্রাম্পকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক রুশ মেয়ে সরবরাহ করতেন।ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই এপস্টেনের সরবরাহ করা নারীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। একদিন এমনই একটি মুহূর্তে মেলানিয়ার সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন।

 

এপস্টেইন নারী সরবরাহের পাশাপাশি ভোক্তাদের যৌন কর্মের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক মেয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের যৌনকর্মের একটি পর্ন ভিডিও তিনি ধারণ করেন।বইতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবির শীর্ষ পর্যায় থেকে মস্কোতে ট্রাম্প হোটেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। এর মাধ্যমেই ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ধ্বংসে রাশিয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনা। প্রেসিডেন্ট হয়ে ক্ষমতায় আসার পর সহযোগিতার শোধ দেয়ার মোক্ষম সময় আসে ট্রাম্পের হাতে। পুতিন যা চেয়েছেন তার সবকিছুই দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

লেখক ক্রেগ উঙ্গার তার নতুন বই আমেরিকান কমপ্রোম্যাটে আরও তুলে ধরেছেন কীভাবে কেজিবি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৈরি করেছে। কিভাবে তাদের পতিতালয়ের ব্যবসা, প্রভাব বিস্তারের লালসা, ক্ষমতার বলয় তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রাম্প কিভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তার কাহিনী।উঙ্গার একজন সাংবাদিক। তিনি এ পর্যন্ত ৬টি বই লিখেছেন। যার মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার হাউস অব বুশ, হাউস অব সৌদ, হাউস অব ট্রাম্প এবং হাউস অব পুতিনও রয়েছে।

 

ট্রাম্প যদি রাশিয়ার সম্পদ হয়ে থাকে তাহলে তিনি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লেখক উচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ছিল পক্ষত্যাগ করা কেজিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা, এফবিআই কাউন্টার ইনটেলিজেন্ট এজেন্ট, আইনজীবীসহ আরও অনেকের সঙ্গে।বইটিতে উঙ্গার বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং তার গোপন নোংরামির গল্প তুলে ধরেছেন। যা ট্রাম্পকে নিয়ে কংগ্রেসের অসংখ্য তদন্তকে ভুল হিসেবে প্রমাণ করে।১৯৭৬ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার মিত্রতা শুরু হয়। তখন তিনি কুইন্স থেকে ম্যানহাটন পর্যন্ত নিজের আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছিলেন।