আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

032150Colds kalerkantho pic 1

ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেশজুড়ে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:শীতে জবুথবু পুরো দেশের মানুষ। এর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রকোপ। ঘরে ঘরে শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি বড়দের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি। করোনা মহামারির মধ্যে এসব রোগের লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না। ফলে অনেকে পড়ছে বিভ্রান্তিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাবরই শীতে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু ও বয়স্ক মানুষ। ফলে তাঁরা আক্রান্তও হন বেশি। শীতকালে সাধারণত সর্দি, ডায়রিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ব্রংকাইটিস, ব্রংকিওলাইটিস, মধ্য কর্ণের প্রদাহ, সাইনাসের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া ইত্যাদি রোগ বেশি হয়। আবার হূদরোগীর ক্ষেত্রে বেশি ঠাণ্ডা অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অ্যাজমা ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের দুর্ভোগ বেশি হয়। শীতকালীন রোগ থেকে রক্ষা পেতে ঠাণ্ডা অনুসারে গরম কাপড় ব্যবহার, যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা পরিবেশ ও খাবার, ধুলাবালি এড়িয়ে চলা জরুরি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাকিল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ সময়ে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেয় ডায়রিয়া। পানিবাহিত কারণে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। এর সঙ্গে নিউমোনিয়াও বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডায়রিয়া হলে শিশুকে খাবার স্যালাইন দিতে হবে। শিশু যদি স্যালাইন খাওয়ার মতো অবস্থায় না থাকে বা স্যালাইন খেতে না চায়, তবে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। ডায়রিয়া হলেও স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে। কোলের শিশুকে অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ঘরে তৈরি সুষম খাবার দিতে হবে। ঠাণ্ডা থেকে রক্ষায় যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি সারাক্ষণ বেশি গরম কাপড় দিয়ে শিশুকে ঢেকে রাখার দরকার নেই। ঘরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

রাজধানীর বাইরে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার জন রোগী রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে অন্তত ২৫ জন। একই সময়ে শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম এ হামিদ পলাশ জানান, গত এক সপ্তাহে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের সময় দগ্ধ হয়ে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে। এখনো চিকিৎসা নিচ্ছে ১৫ জন রোগী।

ঠাকুরগাঁওয়ে দ্বিতীয় দফায় শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন পর্যুদস্ত। গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৮ শয্যার বিপরীতে ভর্তি হয়েছে ১৩৫ জন শিশু রোগী।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. পুলক কুমার সরকার জানান, ওই হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২টি শয্যা থাকলেও রোগী ভর্তি থাকছে অনেক গুণ বেশি। স্বাভাবিক অবস্থায় ডায়রিয়ায় গড়ে পাঁচ-ছয়জন রোগী থাকলেও এখন ২৬-২৭ জন রোগী এবং নিউমোনিয়ায় তিন-চারজন শিশু চিকিৎসাধীন থাকলেও বর্তমানে আট-দশটি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।

গাইবান্ধায় গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে শীতজনিত অসুখের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া অন্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে বয়স্ক মানুষকেও এসব রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত পাঁচ দিনে শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৭৪ শিশু এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সাজু বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর ডায়রিয়া আর শ্বাসকষ্ট ও নিউনোমিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

গত সোমবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল মঙ্গলবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠাণ্ডাজনিত রোগে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৮। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়া এসব শিশু জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বেশি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথি কানুনগো জানান, দুই দিন ধরে বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে। ফলে হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে।