আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডিভোর্স

ডিভোর্স বেড়েছে, ক’রোনাকালীন সময়ে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  চলমান মহামারি ক’রোনাভাইরাসের কারণে দেশে কমে গেছে বিয়ের সংখ্যা। ক’রোনার কারণে অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে তার প্রভাব পড়েছে সবখানে। অভিজাত এলাকা গুলশানেও কমে গেছে বিয়ে হিড়িক।তবে বিয়ের সংখ্যা কমলেও বেড়ে গেছে ডিভোর্সের সংখ্যা। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বেড়ে গেছে বাল্যবিবাহ।কাজী সমিতির দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে কাজীর সংখ্যা রয়েছে ১০ হাজারের মতো।

 

বিয়ের পর কাজীরা তাদের বালাম বইয়ে বিয়ের সব তথ্য সংরক্ষণ করে রাখেন।বাংলাদেশ কাজী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জলিল মিয়াজী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গুলশান-বনানীতে সাধারণ কোনো বিবাহ হয় না। অনেক বড় বড় আয়োজন থাকে। এসব আয়োজনের মাঝে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও যত্নের সাথে করা হয়।

 

গুলশানের অনেক বিয়েতে অনেকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য অনেক বড় বড় আলেম-পীর-মাশায়েখদেরও নিয়ে আসা হয়।তিনি আরও বলেন, গত বছর ক’রোনার প্রথম ধাপে সরকার যেমন সচেতন ছিল, আমরাও সচেতন ছিলাম। লকডাউনের পুরোটাই আমাদের অফিস বন্ধ ছিল। কিছুদিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে টেলিফোনে বা স্কাইপে কিছু বিয়ে শুরু হয়।

 

আবদুল জলিল মিয়াজী ক’রোনাভাইরাসের সময়ে এমন অনেক বিয়ের কাজ করে দিয়েছেন, যেগুলো হয়েছে স্কাইপ/জুমের মতো প্ল্যাটফর্মে। সেখানে কাজী-বর-কনে সবাই ছিলেন যার যার বাসা বা অফিসে। ভিডিও কলে সম্পাদন করা হয় বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে বা পরে সময়-সুযোগ মতো সাবধানতার সাথে নিয়ে আসা হতো বিবাহ নিবন্ধনের স্বাক্ষর।

 

তবে ক’রোনার কারনে গুলশানের মত এলাকায়ও কমে গেছে বিয়ের সংখ্যা। আগে যেখানে মাসে ২৫টি বিয়ে হত এখন সেখানে হচ্ছে মাত্র ৫টি।এ প্রসঙ্গে আবদুল জলিল মিয়াজী বলেন, শুধু গুলশান নয়, বিবাহ কমার এই চিত্র সারা দেশের। গ্রামে গঞ্জে অনেক এলাকায় এখন মাসে একটা বিয়েও হয় না।

 

বিয়ে মানেই নানা আয়োজন, নানা উৎসব। এসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকের জীবন-জীবিকা। নিবন্ধনে বাধ্যবাধকতা থাকায় বিবাহ কমলেও কাজীরা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারছে। কিন্তু একেবারেই যেন পথে বসতে শুরু করেছেন ঢাকাসহ সারাদেশের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটরের ব্যবসায়ীরা।