আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

023654cop kalerkantho pic25 1

তালিকা মানেই নিবন্ধন নয়, চলছে তথ্য যাচাই

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:টিকা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে যাঁরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিংবা সংগঠনের পক্ষ থেকে তালিকা জমা দিয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাঁরা নিবন্ধন করেছেন, তাঁদেরও তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিনই চলছে নতুন নিবন্ধনের কাজ। জটিলতা কমিয়ে নিবন্ধন সহজ করার কাজও চলমান।

এর মধ্যে সাধারণ হিসেবে যাঁরা চেষ্টা করেও নিবন্ধন করতে পারছেন না, তাঁদের অনেকের কাছেই অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। আবার ১৮ বছরের বেশি বয়সী কিছু মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁরাও থাকছেন টিকার বাইরে। তাঁদের কিভাবে টিকার আওতায় নিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে ভাবা দরকার বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাঁরা টিকা পাবেন না।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁরা তালিকা পাঠিয়েছেন, তাঁদের যে নিবন্ধন হয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়। তালিকা নেওয়া হচ্ছে শুধু তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে বা অনলাইনে নিবন্ধন করতেই হবে। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত টিকা দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন দুই লাখ তিন হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে গতকাল এক দিনেই এক লাখের বেশি নিবন্ধন হয়েছে। শুরুতে যে কিছু জটিলতা ছিল, তা এখন আর নেই। ফলে নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শক ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেকেই নিবন্ধনের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার হতে পারছেন না। যাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ তালিকা দিয়েছেন তাঁরা হয়তো ভাবছেন, কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের আর নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। ওই তালিকা নেওয়া হয়েছে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্যাটাগরির মধ্যে সমন্বয় করার জন্য। যাঁরা তালিকা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা অগ্রাধিকারের শ্রেণিতে থাকবেন না, তাঁরা প্রথম পর্যায়ে টিকা পাবেন না। এমনকি অনেকে নিবন্ধন করলেও টিকা পাবেন পরে। আর সেই বিষয়গুলো ঠিকঠাক করার জন্যই সবার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। এখন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষের কাছে স্বচ্ছ ধারণা বা জানাশোনা না থাকার কারণে নতুন এক সমস্যা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ যাঁরা তালিকা পাঠিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই যখন প্রথম দফায় ডাক পাবেন না, তাঁরা বিষয়টিকে কিভাবে নেবেন এবং সরকার তাঁদের কিভাবে ম্যানেজ করবে, সেটা দেখার ব্যাপার আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাঁরা টিকা পাবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা এখনো পরিচয়পত্র করতে পারেন। পরিচয়পত্র ছাড়া টিকা দিতে গেলে হিসাব থাকবে না। তবে যাঁরা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতেও নিবন্ধন করতে পারছেন না বিভিন্ন কারণে, তাঁদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সহায়তা করবেন। কেন্দ্রে গিয়েও তাঁরা নিবন্ধন করতে পারবেন।’

অন্যদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে কেন্দ্র্রগুলোতে টিকা দেওয়ার অবকাঠামোগত ও প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। মাঝে এক দিন বাদে আগামী রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে টিকাদান কার্যক্রম। আয়োজনটি উৎসবমুখর করতে বিভিন্নভাবে প্রস্তুতিও চলছে অনেক এলাকায়। ঢাকার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রাজধানীর চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার হাসপাতালে সাতটি বুথ চালানোর পরিকল্পনা করেছি। এ জন্য হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর পাশেই আরেকটি রুমকে রাখা হবে পর্যবেক্ষণ কক্ষ হিসেবে। যাঁরা টিকা দেবেন তাঁদের এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারা দেশে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রমে টিকাদানকর্মীদের সঙ্গে সহায়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তাদের ১৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এরই মধ্যে তারা সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে বেশির ভাগ উপজেলায় টিকা পৌঁছেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাজানো হচ্ছে টিকা দেওয়ার বুথ। তবে কোনো কোনো উপজেলায় এখনো টিকা যায়নি। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় টিকা যাবে ৭ ফেব্রুয়ারি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ ১৫ ক্যাটাগরির ৫৯১ জনকে টিকা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। রবিবার টিকা আমাদের হাতে পৌঁছবে বলে জানানো হয়েছে।’

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথম দফায় মোট ৯ হাজার ৮৩৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য উপজেলার ৬০ জন টিকাদানকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় টিকা দেওয়ার জন্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে দুজন করে টিকাদানকারী এবং চারজন করে স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন এবং রবিবার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহেদি হাসান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কে এম আবু জাফর কালের কণ্ঠকে জানান, এরই মধ্যে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আট হাজার ৪০০ ফাইল বা ৮৪ হাজার ডোজ টিকা পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের জন্য ২৪ হাজার ১৫১টি করোনা টিকা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাইনুদ্দিন খান। টিকা দেওয়ার জন্য ১৮টি টিমের ৩৬ জন নার্স, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো), ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডাব্লিউডি) ও স্বাস্থ্য সহকারী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।