আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1026 131154

তৃতীয় যুদ্ধবিরতিও স্থায়ীত্ব পেল না : একে অপরকে দোষারোপ করছে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: অ্যামেরিকার মধ্যস্থতায় তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান। কিন্তু তা-ও স্থায়ী হলো না। খবর ডয়চে ভেলে’র।

গোলাগুলি চলেছে রোববার রাতেও। চলেছে, দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা। তারই মধ্যে সোমবার সকাল আটটা থেকে তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান। অ্যামেরিকার মধ্যস্থতায় শুক্রবার থেকে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। রোববার শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতির মানবিক সিদ্ধান্তে পৌঁছয় দুই পক্ষ। কিন্তু সোমবার সকাল হতেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ আনলো দুই পক্ষই। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার সকালে সমস্ত দায় চাপিয়ে দিয়েছেন আর্মেনিয়ার উপর।
অন্যদিকে আর্মেনিয়ার প্রশাসন দায় চাপাচ্ছে আজারবাইজানের উপর।

প্রায় এক মাস ধরে নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান। প্রথম থেকেই দুই দেশকে শান্তি বৈঠকে বসানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া। দুইবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও হয় রাশিয়ার মধ্যস্থতায়। কিন্তু অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা লঙ্ঘন করেছে দুইটি দেশ। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ফের দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসায় মস্কো। গত বৃহস্পতিবার মস্কোয় বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক করেন আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু তাতেও জট খোলেনি।

এর পর প্রথমে মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও এবং পরে মার্কিন কূটনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ বৈঠকের পর রোববার সন্ধ্যায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। অ্যামেরিকা, আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয় মানবিক কারণে সোমবার সকাল আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হচ্ছে।

কিন্তু সোমবার সকাল হতেই আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আজারি শহর টারটারে আক্রমণ চালিয়েছে আর্মেনিয়া। সেখানে শেলিং করা হয়েছে। পাল্টা অভিযোগ করে আর্মেনিয়াও। তাদের দাবি, আজারি ফৌজ প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে রোববার থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল। রোববার সকালে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের একটি টুইটে সেই প্রশ্ন আরও গুরুত্ব পায়। তিনি লিখেছিলেন, নিজের দেশকে রক্ষা করার অধিকার সকলের আছে। আজারবাইজান নিজের দেশকে শেষ দিন পর্যন্ত রক্ষা করবে।

অথচ এই প্রেসিডেন্টই শনিবার শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হচ্ছে, তখন আজারি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আর্মেনিয়ার যুদ্ধবিমান আজারবাইজানের সীমান্তে ঢুকে পড়ায় তা ধ্বংস করা হয়েছে। নাগর্নো-কারাবাখের যোদ্ধারা দাবি করেছেন, দিনভর ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জনবসতি লক্ষ্য করে ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করেছে আজারি বাহিনী। আজারবাইজান গোলাবর্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। কিন্তু তাদের দাবি, দিনভর মর্টার এবং লাইট মেশিনগান নিয়ে যুদ্ধ চালিয়েছে সেনা।

এ দিকে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড রোববার জানিয়েছে, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সীমান্তে তারা সেনার সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। ইরান যাতে দুই দেশের যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা বলে তারা জানিয়েছে। বস্তুত, এর আগে ইরান দাবি করেছিল, দুই দেশের গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চল।