আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

images 16 image 1610482792

দিহানের বাসায় তালা মারলো কে

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃরাজধানীর কলাবাগানে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে গ্রেফতার হওয়া ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাবা আব্দুর রৌউফ সরকার ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। আর মা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ঘনিষ্ঠতা ছিল তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে।

 

অনেক অর্থ ও সম্পদের মালিক তারা। এমন তথ্য জানান দিহানের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রামের বাসিন্দারা।তাদের মতে, বাবার বিপুল অবৈধ অর্থবিত্ত তার উচ্ছন্নে যাওয়ার বড় কারণ।

 

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি দিহানের বাসার দারোয়ান দুলাল মিয়া আদালতে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ মঙ্গলবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

 

রাতুগ্রামের বাসিন্দারা জানান, দিহানের বাবা আব্দুর রৌউফ পৈতৃক জমি সম্পত্তি বাদেই বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন শতাধিক বিঘার বেশি জমি। আছে আরও সম্পত্তি। রাজশাহী শহরে রয়েছে দুটি বাড়ি, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট। বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়ায় গ্রামেও রয়েছে দিহানের পরিবারের ব্যাপক প্রভাব।

 

এ কারণে নিজের নাম-পরিচয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন গ্রামের মানুষ। পরে তাদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও আছে।দিহানের বাবা আব্দুর রৌউফ বিভিন্ন স্থানে সাব-রেজিস্ট্রার ও রাজশাহী এবং ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা রেজিস্ট্রার ছিলেন। ২০০৯ সালে অবসর নেন।

 

চাকরি জীবনে বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি। শুধু নিজ গ্রামেই কিনেছেন ৮০ বিঘা ফসলি জমি ও আমবাগান। রাজশাহীর অভিজাত এলাকা পদ্মা আবাসিক ও নগরীর সাগরপাড়ায় দুটি বহুতল বাড়ি আছে। পার্শ্ববর্তী এলাকা নওগাঁর আত্রাইতেও জমি কিনেছেন।

 

এদিকে দিহানকে ঢাকায় রেখে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানো হলেও তার বড় ভাই সুপ্ত মাদকাসক্ত। তাদের বাবা গ্রামে থাকেন সুপ্তকে নিয়ে। মা দিহানকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের মানুষদের রৌউফ পরিবারের সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক নেই বলে গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন।

 

ছোটখাটো কোনো ঘটনা হলেই মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে গ্রামের মানুষকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে। বাবার বিপুল অবৈধ সম্পদের কারণে স্বভাব ও আচরণে দিহান কিংবা তার ভাই সুপ্তর জীবনও উচ্ছৃঙ্খল হয়েছে-এমন দাবি গ্রামবাসীর।

 

যা মনে চায় তাই হাতের কাছে পাওয়ার সুযোগ থাকায় দুই ভাই বেশ উচ্ছৃঙ্খল। দিহান কদাচিৎ গ্রামে আসত। তার মা শিল্পী বেগম দিহানের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকেন।

 

দিহানের বিরুদ্ধে বান্ধবীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা হওয়ার পর তাদের দুর্গাপুরের বাড়িটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। দিহানের বাবা কোথায় আছেন সেটাও গ্রামের মানুষের জানা নেই।

 

তবে ফোনে দিহানের বাবা বলেন, তার ছেলের বিষয়ে আইন তার নিজের গতিতে চলবে। বিপুল সম্পদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

দারোয়ানের জবানবন্দি : স্কুলছাত্রীর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি ইফতেখার ফারদিন দিহানের (১৮) বাসার দারোয়ান মো. দুলাল মিয়া আদালতে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে হাজির করে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

 

এর আগে ১০ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত দিহানের ডিএনএ টেস্টের অনুমতি দেন। এ মামলায় ৮ জানুয়ারি দিহান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই দিন জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।