আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুর্নীতি

দুর্নীতি দমনকে আন্দোলন হিসেবে দেখার আহ্বান

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সব স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এসংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিরোধী জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ। প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সব স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল ও বহুমাত্রিক কাজ করছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা খুব দরকার।

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক অপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ কর যাবে না।’ তাই শুধু আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা।

 

সংসদ নেতা বলেন, ‘জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেমে আসে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং শুদ্ধাচারের অভাব। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা এই অব্যবস্থা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। এই যুদ্ধকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তাঁর শাসনামলে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার অভিযোগ অনুসন্ধান, তিন হাজার ৫০৯টি মামলা রুজু এবং চার হাজার ৪০৭টি চার্জশিট দাখিল করেছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের উৎসমুখগুলো বন্ধ করতে অনলাইনে টেন্ডারসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা : জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে, তার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

বিশ্ব থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাপ্তি : বিরোধী দলের চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে কভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) ও জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা থেকে যথেষ্ট সাড়া পাওয়া গেছে।

 

তিন কোটির বেশি ভ্যাকসিন ক্রয়ের ব্যবস্থা সম্পন্ন : সরকারদলীয় সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, যথাসময়ে করোনা টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে অক্সফোর্ড/ অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের তিন কোটি বা তার অধিক ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় করার ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিন জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই পৌঁছবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি হতে বিশ্বের ৯২টি দেশের মতো দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ জনগোষ্ঠী তথা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে। করোনার টিকা কারা কারা পাবে, তারও তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী : সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ্র প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারত সরকারের উদ্যোগে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এই প্রদর্শনী মূলত একটি বছরব্যাপী আয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে এ প্রদর্শনী হবে।