আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

2 208

ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে বিয়ে, ৪ বছর সংসারের পর অস্বীকার!

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:সাতক্ষীরায় ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করে চার বছর সংসার করেছেন শিমুল বিশ্বাস নামের হিন্দু এক যুবক। তবে সম্প্রতি সেই বিয়ে অস্বীকার করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় শিমুলের শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অভিযোগকারী তরুণী হলেন সাতক্ষীরা শহরের মধ্যকাটিয়া গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের মেয়ে নাজনীন আক্তার প্রিয়া। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ‘আমি ভালোবাসার আশ্বাসে প্রতারিত হওয়া এক অসহায় নারী। গত ২০১৬ সালের দিকে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে শিমুল বিশ্বাস সাতক্ষীরায় আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করত। সে সময় তার সাথে পরিচয় হয় আমার। শিমুল নিজেকে মুসলিম পরিবারের পরিচয় দিয়ে তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সে সময় তার মিষ্টি কথার জালে ফেঁসে গিয়ে নিজের স্বজনদের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছিলাম। যে কারণে বিয়ের আশ্বাস পেয়ে সকলকে ফেলে তার কাছে গিয়েছিলাম। সে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মিথ্যা বিবাহ করে এবং সংসার করতে থাকি।’

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন পর আমি জানতে পারি শিমুল আসলে হিন্দু। আর হিন্দু যুবকের সাথে চলে যাওয়ায় আমার পরিবার মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় এবং সে সময় ফিরে আসার সুযোগ না থাকায় আমি তার সাথেই সংসার করতে থাকি। দাম্পত্য জীবনে আমার গর্ভে দুইবার সন্তান আসলেও কৌশলে তা নষ্ট করে দেয়। এর মধ্যে বদলি হয়ে গোপনে চট্টগ্রামে চলে যায় শিমুল। চট্টগ্রামের বাসায় থাকা অবস্থায় তুচ্ছ ঘটনায় শিমুল আমাকে প্রায় মারপিট করত এবং কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাও করে। ভয়ে সেখান থেকে আমি সাতক্ষীরায় চলে এসে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। ডায়েরির বিষয়টি অবগত হয়ে শিমুল আমাকে ডায়েরি তুলে নিতে বলে। পরে শিমুল যশোরের বাঘারপাড়া থানায় উল্টো আমার বিরুদ্ধে একটি জিডি করে।’

নাজনীন আক্তার প্রিয়া বলেন, ‘পরবর্তীতে মোবাইলে শিমুল আমার সাথে সুন্দর ব্যবহার করতে থাকে একপর্যায়ে আমার সাথে পুনরায় সংসার করবে মর্মে বাঘারপাড়া থানায় যেতে বলে। আমি সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে কৌশলে শিমুল কতিপয় লোকদের সহযোগিতায় একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে শিমুলের ভগ্নিপতি অসীম শিকদার মোবাইলে আমাকে বলে, “আপনাকে কোনভাবেই আমরা মেনে নেবো না। আপনি আত্মহত্যা করবেন? করেন আমার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করেন”।’

ভুক্তভোগী প্রিয়া আরও বলেন, ‘এদিকে ওই প্রতারক শিমুলের সাথে আমার জীবনের চারটি বছর কেটে গেছে। এখন জানতে পারছি ওই বিবাহও ছিলো ভুয়া এবং সাজানো। গর্ভে সন্তান এলেও কেন শিমুল তা নষ্ট করে দিয়েছিল। একদিকে আমার পরিবারও মেনে বাড়িতে থাকতে দিতে রাজি হচ্ছে না। অন্যদিকে স্বামী হিসেবে বিশ্বাস করে যার হাতে জীবনের সব কিছুই সপে দিয়েছিলাম, হিন্দু জানারপরও ভালোবেসে তার হাত ধরেই ছিলাম। সেও আজ তাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার স্বজনদের দিয়েও দেওয়া হচ্ছে নানা হুমকি ধামকি। আমি এখন কোথায় যাব? আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে আমার একমাত্র রাস্তা।’

তিনি যাতে স্বামীর ঘরে পরিপূর্ণ মর্যাদায় ফিরে যেতে পারেন, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এই তরুণী।