আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষণচেষ্টা; তরুণীর 'মানহানির' দাম ২৫ হাজার টাকা!
ধর্ষণচেষ্টা; তরুণীর 'মানহানির' দাম ২৫ হাজার টাকা!

ধর্ষণচেষ্টা; তরুণীর ‘মানহানির’ দাম ২৫ হাজার টাকা!

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সালিস করে অভিযুক্তকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ সালিসকারীদের বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ এনে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিম।

 

এর আগে রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আমুলী গ্রামে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যা নিহারুন বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আলীকে আটক করেছে পুলিশ।

 

মামলার আসামিরা হলেন- অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. আব্দুল আলী (৪০), সালিসকারী ইউনুস আলী (৫৫), ছোয়াব সরদার (৫৮), আছকির মিয়া (৪০), সোহেল আহমদ তৈয়ব (৩৮), আব্দুল বারী (৫৮), হারিছ আলী (৫৭)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন আরো ৭/৮জন।

 

মামলা, পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই তরুণীর বাবা নেই। মা স্থানীয়দের বাড়িতে কাজ করেন। ওই তরুণীও স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য নিহারুন বেগমের বাড়িতে প্রায় সময় কাজ করতেন। রবিবার বিকেলে ওই বাড়িতে কাজ করার সময় ধর্ষণচেষ্টা করেন আব্দুল আলী।

 

এ সময় তরুণীর চিৎকার শুনে ওই বাড়ির সদস্যরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যার মেয়ে এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত আব্দুল আলী পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সালিসকারীরা ঘটনার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তরুণীকে আইনের আশ্রয় নিতে নিষেধ করেন। সালিসকারীগণ আসামি আব্দুল আলীকে দোষী বলে অভিযুক্ত করার পরও তাকে বাঁচানোর জন্য বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সাদা কাগজ এবং ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ওই তরুণী ও সালিসকারীদের স্বাক্ষর রাখা হয় বলেও জানা গেছে।

 

সালিসকারীদের একজন তৈয়ব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর এলাকার স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বি সবাই মিলে সেখানে বসছিল। তখন ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়া বা এলাকায় মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে সালিসে সমাধান করা হয়। এ সময় তার (তরুণীর) যে মানহানি হয়েছে, সেই মানহানি বাবদ তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ইউপি সদস্য নিহারুন বেগম বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। রাতে বাড়িতে ফিরলে আমার মেয়ে বিষয়টি আমাকে অবগত করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে আমি ভিকটিমকে জিজ্ঞেস করলে সে প্রথমে বিষয়টি লোক লজ্জায় আড়ালের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে আব্দুল আলী তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এরপর ভিকটিমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেই। রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়রা সালিসে বসেন। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সালিসবোর্ডে অভিযুক্তকে জরিমানার টাকা দেওয়ার জন্য কয়েকমাস সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

 

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় বলেন, ভিকটিম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ সালিসকারীদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত ১নম্বর আসামি আব্দুল আলীকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনার বিষয়ে সালিসে জড়িত কেউ থাকলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।