আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নতুন যুগে প্রবেশ করলো যুক্তরাজ্য

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:নতুন যুগে প্রবেশ করলো যুক্তরাজ্য। ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ইউরোপকে বিদায় জানালেন ব্রিটিশরা। ব্রেক্সিট চুক্তির চার বছর পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে এলো যুক্তরাজ্য। খবর বিবিসির।

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বাজতেই একদিকে এসেছে ইংরেজি নতুন বছর, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে যুক্তরাজ্যের। অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে আর ইইউ’র অংশ নয় দেশটি।

২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল ব্রিটিশরা। এর প্রায় চার বছর পর বাস্তবে পরিণত হলো সেই সিদ্ধান্ত।

টানা এক বছর ধরে সম্পর্কের টানাটানি আর মতবিরোধ মিটিয়ে গত বড়দিনের আগমুহূর্তে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। ব্রেক্সিট চুক্তি অনুসারে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইইউ জোটের অংশীদার হিসেবে আগের মতোই বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করেছে যুক্তরাজ্য। কিন্তু ১ জানুয়ারি থেকে সেটি বন্ধ হয়ে কার্যকর হয়েছে নতুন ব্রেক্সিট বাণিজ্য চুক্তি। গত বুধবারই এই চুক্তির অনুমোদন দিয়ে আইনে পরিণত করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

নতুন চুক্তির ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকছে। তবে সীমান্ত দিয়ে আগের মতো অবাধ যাতায়াতের অধিকার আর নেই। তাছাড়া, এখনও অনিশ্চিত ব্যাংকিং এবং সেবাখাতের বিষয়গুলো।

উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সংশয়

২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন বরিস জনসন। ক্ষমতায় বসার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে বহুদলীয় ওই জোট থেকে বের করেও আনেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই, সেই ব্যবস্থা চূড়ান্ত রূপ পাওয়ায় যারপরনাই খুশি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

নতুন বছরের শুভেচ্ছার সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য এখন ভিন্নভাবে কাজ করতে স্বাধীন। এই ব্যবস্থা ইইউ’র অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক ভালো বলেও মন্তব্য করেছেন জনসন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা এখন হাতের মুঠোয় এবং এর সদ্ব্যবহার করার দায়িত্ব আমাদেরই।

ব্রেক্সিটে ব্রিটিশদের পক্ষে প্রধান সমঝোতাকারী লর্ড ফ্রস্ট এক টুইটে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্য আবারও পুরোপুরি স্বাধীন হয়েছে।’ কনজারভেটিভ সংসদ সদস্য স্যার বিল ক্যাশ এ ঘটনাকে ‘সার্বভৌমত্ব ও গণতন্তের বিজয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ব্রেক্সিটবিরোধীদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাপ্রত্যাশী স্কটিশ মন্ত্রী নিকোলা স্টারজন টুইট করেছেন, ‘স্কটল্যান্ড দ্রুত ফিরে আসবে, ইউরোপ। আলো জ্বালিয়ে রাখো।’

অবশেষে ব্রেক্সিট বাস্তবায়িত হওয়ায় হাফ ছেড়েছে ব্রাসেলসও। তবে এ নিয়ে তারা যে অসন্তুষ্ট, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করে, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্য-ইইউ উভয়কেই দুর্বল করে দিয়েছে।

বদলালো কী?

যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অবাধ চলাচলের সুবিধা আর নেই। এর বদলে পয়েন্টভিত্তিক নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে ব্রিটিশরা।

যুক্তরাজ্যের কেউ ইইউ দেশগুলোতে ১৮০ দিন সময়সীমার মধ্যে ৯০ দিনের বেশি থাকতে চাইলে তাদের ভিসা নিতে হবে।

শুল্কমুক্ত কেনাকাটার সুবিধা থাকছে। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরা ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৪২ লিটার বিয়ার, ১৮ লিটার ওয়াইন, চার লিটার স্পিরিটি ও ২০০ সিগারেট বিনাশুল্কে সঙ্গে নিতে পারবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুবিশাল ক্রিমিনাল রেকর্ড ডাটাবেজের সুবিধা হারিয়েছে যুক্তরাজ্য।

ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখন থেকে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসকে বাড়তি কাগজপত্র সামলাতে হবে।