আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

215217kalerkantho pic 1

নেপালে চীনা নাগরিকদের ‘অপরাধ’ বাড়ছে!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: চীনারা নেপালের মাটি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। নেপালকে কেন্দ্র করে তারা গড়ে তুলেছে অপরাধচক্র। সোনার চোরাচালান থেকে শুরু করে চুরির মতো কাজে জড়িয়ে পড়ছে চীনারা। খবরহাব নামের একটি পোর্টালে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

 

খবরহাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠমান্ডুর গৌশালায় একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন দুই চীনা নাগরিক লি উইপিং ও লি জিয়াংজিং। ৩ জানুয়ারি উ চও ও জাং ওয়েই নামের আরো দুই চীনা নাগরিক তাদের বাইরে আসতে বলেন।

 

উইপিং ও জিয়াংজিং বাইরে আসতে রাজি হন। পরে তারা বেরও হন। বের হওয়ার পরই তাদের বলা হয় ট্যাক্সিতে উঠতে। ট্যাক্সিতে দু’জন নেপালি নাগরিকও ছিলেন। এরপর ট্যাক্সিটি সরাসরি সিন্ধুপালচোক জেলার দিকে যাত্রা শুরু করে।

 

কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ডিএসপি প্রাভাশ বিস্তারের মতে, ট্যাক্সিটি সিন্ধুপালচোক জেলার মারমিংগা নামক স্থানে তাদের নিয়ে যায়। সেখানে তাদের জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

 

ডিএসপি বিস্তা জানান, দুই চীনা নাগরিকের স্বজনরা অভিযোগ দায়েরের পর তারা (পুলিশ) গোপনে তদন্ত শুরু করে। এরপরে অপহরণের শিকার দু’জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচদিন পর তাদের উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে চারজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

 

ডিএসপি বিস্তা আরো জানান, তাদের (অপহরণের শিকার ব্যক্তিরা) শরীরে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাদের উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।

 

অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চীনা নাগরিক হলেন চীনের শানডংয়ের জিন আংখোই এবং জাং ওয়ে। পুলিশ তাদের নেপালি সহযোগীদেরও গ্রেপ্তার করেছে। নেপালিরা হলেন, সিন্ধুপালচোক জেলার দাওয়া পাসাং লামা এবং ভাক্তা লামা ওরফে ‘মাইলা’। তবে অপহরণের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

 

এদিকে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পুরো বিষয়টিকে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বলে অভিহিত করেছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, পুলিশের বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট পার হয়ে সিন্ধুপালচোক পৌঁছে যায় ট্যাক্সিটি।

 

সোনার চোরাচালান থেকে শুরু করে চুরির মতো অপরাধে চীনা নাগরিকদের সম্পৃক্ততা নেপালের চীনা নাগরিকদের অপরাধকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বেশ কয়েকটি মামলার একটি হলো অপহরণ মামলা।

 

গত বছরের ১৩ মার্চ তরোয়াল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল চীনা নাগরিক থমেলের জ্যাথা নামক অঞ্চলে এক নেপালি ট্যাক্সি চালকের ওপর হঠাৎ আক্রমণ করে।

 

এরপর এলাকার ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চীনা হামলাকারীদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে গুরুতর আহত ট্যাক্সিচালক উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ চীনা ব্যবসায়ী ওয়াং ইউনফেংকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু তাকে আটকে রাখা যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

গত বছরের ডিসেম্বরে কাঠমান্ডুতে থাকা চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান চালায় দেশটির স্থানীয় পুলিশ। কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও আর্থিক অপরাধে জড়িত একশ ২২ জন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এটি ছিল দেশটিতে সবচেয়ে বড় পুলিশি অভিযান, যাতে এতো বেশি বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

 

এদিকে, এটিএমের পিন হ্যাক করে অর্থ চুরি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে পাঁচজন চীনা নাগরিক। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন আরো একজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

 

২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (টিআইএ) থেকে ৮০ কেজি সোনাসহ তিনজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইভাবে ৫ আগস্ট টিআইএতে হংকং থেকে আসা চীনা নাগরিক লি নিংকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তার কাছে পাওয়া যায় চার কেজি সোনা। ২৫ আগস্ট তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে চুরির অপরাধে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

চীনা নাগরিকদের অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার কারণ

কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকার চীনা পর্যটকদের ভিসা ফি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর ফলে নেপাল ভ্রমণকারী চীনা পর্যটকদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। নেপাল পুলিশের প্রাক্তন ডিআইজি হেমন্ত মল্লা বলেছেন, নেপালে আসা চীনা নাগরিকদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

হেমন্ত মল্লার মতে, অপরাধে জড়িত চীনা নাগরিকরা হাই-টেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য দূতাবাস থেকে চাপ আসতে থাকে। এই কয়েকটি কারণে সমস্যা আরো বেড়ে গেছে।