আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পণ্য চার হাজার, সনদ আছে ২২৯টির
পণ্য চার হাজার, সনদ আছে ২২৯টির

পণ্য চার হাজার, সনদ আছে ২২৯টির

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ দেশে পণ্যের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। এসব পণ্যের মধ্যে মান সনদ রয়েছে মাত্র ২২৯টির। শুধু মান সনদ নেওয়া এসব পণ্যের তদারক করে বিএসটিআই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে যেখানে মান সনদ নেওয়ার পরও পণ্যের মান ঠিক রাখা হয় না, সেখানে মান সনদের বাইরে থাকা পণ্যগুলোর কী অবস্থা, তা সহজেই অনুমেয়। বিএসটিআই কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যপণ্য হলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তদারক করবে আর সনদহীন খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দেখভালের দায়িত্ব জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের। কৃষিপণ্য দেখভাল করবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার ৫২তম বিশ্ব মান দিবস। পণ্য ও সেবার মানের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এ বছরের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব বিনির্মাণে—মান’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

জানা গেছে, বিএসটিআই তাদের সনদ নেওয়া পণ্যের মান যথাযথ আছে কি না, পণ্যে কোনো ক্ষতিকর উপাদান কিংবা পণ্যের বিষয়ে কারো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা তদারক করে। এ পর্যন্ত এই ধরনের পণ্যের সংখ্যা ২২৯। এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে বিএসটিআই থেকে মান সনদ নেওয়া হয়েছে।

 

বিএসটিআই কর্মকর্তারা বলছেন, ‘বিশ্বের অনেকে দেশে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সনদ না থাকলে ক্রেতারা পণ্য কেনে না। আমাদের দেশে এখনো সেই সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ক্রেতারা এখনো যথেষ্ট সচেতন নয়।’

 

বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (সিএম) রিয়াজুল হক  বলেন, ‘দেশে চার হাজার আটটি পণ্যের জন্য স্ট্যান্ডার্ড বা মান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু পণ্যের সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দিন যত যাবে, দেশে পণ্যের সংখ্যাও বাড়বে। সেই সঙ্গে মান বা স্ট্যান্ডার্ডের সংখ্যাও বাড়বে। আর জনগুরুত্ব বিবেচনায় বাধ্যতামূলক মান সনদের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।’

 

তবে বাধ্যতামূলক হলেও অনেক পণ্যের গুণগত মান যাচাই না করেই বিক্রি করা হচ্ছে। সর্বশেষ বিএসটিআই গত মঙ্গলবার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে কাপড়ের রঙের স্থায়িত্ব সনদ না নিয়ে তৈরি, বিক্রি, বিতরণ ও বাজারজাত করার অপরাধে বেল ও মেন্স ওয়ার্ল্ড (বাংলাদেশ) লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে। একই দিন রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্য মোড়কজাতকরণ সনদ ছাড়া বিভিন্ন জাতের ডাল, বিস্কুট, পাউরুটি বিক্রি ও বাজারজাত করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে।

 

বিক্রির জন্য মান সনদ থাকলেও অনেক পণ্যের মানের বিষয়ে ক্রেতাসাধারণের আস্থা নেই। এর মধ্যে নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্যও রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অভিযান পরিচালনা ও নিষিদ্ধ করার পরও অনেক পণ্য মানহীন রয়ে যাচ্ছে। অনেক পণ্যের মান দেখারও কেউ নেই। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য, শিল্পসহ অন্য মন্ত্রণা

লয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশ ও পণ্যের মান নিশ্চিত হওয়ার পর লাইসেন্স দেওয়া যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও খাদ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লতিফুল বারি  বলেন, ‘পণ্যের মান উন্নয়নে কো-অর্ডিনেশন দরকার। রপ্তানিমুখী পণ্যের মান সনদ দেওয়ার জন্য দেশে ভালো কোনো ল্যাব নেই। মানহীন হওয়ায় দেশ থেকে পান, আলু রপ্তানি বন্ধ ছিল অনেক দিন। কিছু পণ্যের মান দেখে বিএসটিআই, কিছু দেখে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এভাবে পণ্যের মান ঠিক রাখা যায় না। অভিযান চালিয়ে পণ্যের মান উন্নয়ন করার চেষ্টা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জানেই না কোন পণ্যের কী মান হওয়া উচিত। পণ্যের মান উন্নয়নে উৎপাদন পর্যায়ে তদারক করতে হবে।