আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

131953 116327134 gettyimages 1181344604

পরমাণু সমৃদ্ধিতে ইরানে আইন পাশ, জাতিসংঘ বলছে ‘পরমাণু চুক্তি’ লঙ্ঘন

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:২০১৫ সালের পরমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিতে কাজ করেছে ইরান। দেশটি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির কাজ করতে চায়। গত মাসে ইরানের পার্লামেন্ট পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা বিষয়ক একটি আইন পাস করে। তবে ২০১৫ সালের চুক্তিতে ইরানের এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৪ শতাংশের এর নিচে রাখার কথা ছিল।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, ইরান ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ পরমাণু সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা ফর্দো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্লান্টকে জানিয়েছে। ইরানের এই পরমাণু সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পটি দেশটির একটি পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত একটি স্থাপনা।

সংস্থাটি আরো বলছে, ‘সংস্থাকে যে চিঠিটি ইরান দিয়েছে, সেখানে এই সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কখন থেকে হবে তা বলা হয়নি।’

২০১৯ সালের পরমাণু চুক্তি শর্ত অনুযায়ী, ইরান ৩.৬৭ শতাংশের বেশি বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। কিন্তু সেই শর্ত তারা লঙ্ঘন করেছে। দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিযাদে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় গত মাসে ইরানের পার্লামেন্ট পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা বিষয়ক একটি আইন পাস করে। ওই বিলটিতে বলা হয়েছে হয়েছে, ইরানের তেল ও আর্থিক খাতের উপর নিষেধাজ্ঞাগুলো দুই মাসের মধ্যে শিথিল না করলে ইরানের সরকার ২০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ আবারো শুরু করবে।

নাতান্জ এবং ফর্দো ইরানের পরমাণু স্থাপনায় জাতিসংঘের পরিদর্শকদের যেন যেতে দেয়া না হয় সে বিষয়ে ওই আইনে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একটি পরমাণবিক বোমা তৈরি করতে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। তবে ইরানের কাছে এখনো সেই পরিমান ইউরেনিয়াম নেই বলে দাবি জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থার। ইরানের এই ২০ শতাংশ ইউরেমিন সমৃদ্ধির কাজ এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লঙ্ঘন বলেও দাবি সংস্থাটির।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে সরিয়ে এনে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেন। এর পর থেকেই ইরান এই চুক্তি লঙ্ঘন শুরু করে। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া এবং চীন সবাই আশা করে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানে ফিরে আসবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘অপচয় এবং যাচ্ছেতাই’ আখ্যায়িত করে ২০১৮ সালের মে মাসে চুক্তি থেকে সরে আসেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তিতে ফিরিয়ে আনবেন।