আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

1735374

পাকিস্তানের সহায়তায় মুম্বাই হামলার মূল হোতা সাজিদ মীর অধরা, বলছে জিহাদ ওয়াচ

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: মুম্বাই হামলার মূল হোতা সাজিদ মীর এখনও নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করছে, পাকিস্তানের সহায়তায় নিজেকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন সাজিদ মীর।

 

মুম্বাই হামলার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও তাকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে এ কুশীলব।

 

মুম্বাই হামলা ছাড়াও সাজিদ মীরের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ডেনমার্কসহ আরও বেশ কিছু পশ্চিমা দেশে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী জিহাদ ওয়াচ মনে করছে, সাজিদ মীরের বিষয়ে বহির্বিশ্বকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেছে পাকিস্তান। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছে পাকিস্তান জঙ্গি সংগঠন হক্কানি নেটওয়ার্ক ও তালেবানদের অভয়ারণ্য, কিন্তু দেশটির পক্ষ থেকে ‘দেখেও না দেখার ভান’ আচরণ করা হয়।

 

এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের ধারণা সাজিদ মীর নিজের পরিচয়ই সম্পূর্ণ আড়ালে রেখেছেন। তার পরিচয় নিয়েই অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে এখন।

 

জিহাদ ওয়াচের দাবি, এমনও হতে পারে- সাজিদ মীর দেশটির সেনাবাহিনী অথবা দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তা কিংবা সদস্য যিনি লস্কর ই তৈয়বার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

 

২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাই শহরের বড় বড় হোটেল ও ব্যস্ততম স্থানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর ব্যস্ততম শহরটির তাজ হোটেল,ওবেরয় হোটেল ও লিওপড ক্যাফেতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

 

এর পাশাপাশি নারিমান হাউজ ও ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনালেও হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন ১৬৬ জন মানুষ। হামলায় অংশ নেওয়া ৯ জন সন্ত্রাসী ভারতীয় কমান্ডোদের প্রত্যাঘাতে প্রাণ হারায়।

 

আজমল কাসাব নামে একজনকে জীবিত গ্রেপ্তার করে ভারতীয় কমান্ডোরা। পরে এ সন্ত্রাসীর মৃত্যদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয় ভারতে। পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন  লস্কর  ই তৈয়বার সদস্যরাই এ হামলায় জড়িত ছিল বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল এই সাজিদ মীর। সূত্র: আল আরাবিয়া, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড।