আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

dor

পুজোর সময় কেন হাতে বাঁধা হয় লাল ডোর?

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় লাল ডোর দিয়ে পুজো দেওয়ার রীতি রয়েছে। হিন্দুমতে পুজোরই একটা অঙ্গ হল এই লাল ডোর। এই ডোরকে পুণ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

 

হাতে বেঁধে দেওয়া হয় সেই ডোর। কিন্তু এই লাল ডোরের অর্থ কি?যে কোনও পুজোর আগে হাতে বাঁধা হয় লাল ডোর। পুজো ছাড়াও অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই লাল ডোর বাঁধার রীতি রয়েছে।

 

এটি মূলত সুতো দিয়ে তৈরি হয়। অনেক সময় এর মধ্যে হলুদ সুতো মেশানো হয়। কোনও মন্ত্র পাঠের সময় এটি বেঁধে রাখতে হয়। এতে সব অশুভ শক্তি দূরে চলে যায়।

 

এই লাল ডোরে পৌরাণিক গুরুত্ব রয়েছে।একসময় ভগবান ও অসুরের যুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন ভগবান ইন্দ্র। তাঁর জন্য প্রার্থনা শুরু করেন স্ত্রী ইন্দ্রাণী।

 

অসুরেরা খুব শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। ইন্দ্রাণী তাঁর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা দিয়ে একটি ডোর তৈরি করেন ও দেবতা ইন্দ্রের গলায় বেঁধে দেন যাতে অসুর তাঁকে আঘাত করতে না পারে।

 

এরপরেই সেই যুদ্ধে জয়ী হন দেবতারা। আরও বলা হয়, বামন অবতারে ভগবান বিষ্ণু বালি রাজাকে পাতালে পাঠিয়ে দেন আর বালিকে অমরত্ব দিতে তাঁর হাতে বেঁধে দেন লাল ডোর।

 

এছাড়া আমাদের দেহের রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ হয় কবজি থেকে। তাই কবজিতে সুতো বাঁধে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে বলেও অনেকে মনে করেন। ফলে অশুভ শক্তি কিংবা অসুখ থেকে মানুষকে দূরে রাখে এই ডোর।

 

এছাড়া মনকেও পরিষ্কার করে। তবে ডোর বাঁধার সময় মনে রাখতে হবে ওই ডোরের মুখ যেন নিচের দিকে না থাকে, আর মাত্র তিনবার পাক দেওয়া যাবে এই ডোরের।