আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Prothombarta News 019524781

পুতিন-বাইডেন বৈঠক; মেয়াদ বাড়লো ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ ২০১০ সালের পরমাণু ভারসাম্যের চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে চলেছে বিশ্বের দুই পরাক্রমশালী দেশ রাশিয়া এবং আমেরিকা  ।  রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বাসভবন “ক্রেমলিন” থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে ।২০১০ সালে রাশিয়া এবং আমেরিকা ‘স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি’ নামক চুক্তি করে।যাকে ‘নিউ স্টার্ট’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। সম্প্রতি আমেরিকা এবং রাশিয়ার উধ্বর্তন কূটনীতিকরা সেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি প্রদেশে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।গত মঙ্গলবার এই তথ্য দিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের সরকারি ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে সমস্ত তথ্য জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার জো বাইডেনের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অ্যামেরিকা এ বিষয়ে কিছু না জানালেও, পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চুক্তির নবীকরণ করতে হবে।২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সেই সময়ের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডিমিট্রি মেডভেডেভের মধ্যে এই চুক্তি প্রথম হয়েছিল।

 

চুক্তির শর্ত ছিল, দুই দেশই পরমাণু শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে। কে কত পরিমাণ পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা সুনিশ্চিত হয়েছিল ওই চুক্তিতে। এছাড়াও আরো একটি পরমাণু চুক্তি হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে।ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর একটি চুক্তি থেকে অ্যামেরিকাকে সরিয়ে নেন তিনি।

 

অন্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে না গেলেও ওই চুক্তিতে বেজিংকে ঢোকানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিউ স্টার্ট চুক্তি নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তিনি কখনোই দেখাননি। বেজিংও ওই চুক্তিতে অংশ নিতে রাজি হয়নি।নির্বাচনী প্রচারেই বাইডেন জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে শক্তিসাম্যের বিষয়ে তিনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি সে কাজ করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের সময়ে চুক্তির নবীকরণ হয়নি। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চুক্তির পুনর্নবীকরণ না হলে তা তামাদি হয়ে যাবে বলে কূটনীতিকদের বক্তব্য।

 

সে কারণেই ওই চুক্তির দ্রুত নবীকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১০ এর চুক্তি যেমন ছিল, ২০২০ সালেও তা রক্ষা করা হবে ক্রেমলিন জানিয়েছে।এই চুক্তির ফলে দুই দেশই ৭০০টির বেশি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল রাখতে পারবে না। সাবমেরিন থেকে ব্যবহার করা যায় এমন ব্যালেস্টিক মিসাইলের সংখ্যাও ৭০০। ১৫৫০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডস রাখা যাবে। ৮০০টির বেশি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল লঞ্চার রাখা যাবে না।