আজ ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

022416Sobuj kalerkantho pic

প্রার্থী ‘নিখোঁজে’ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:মাদারীপুরের কালকিনিতে পৌর নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার ১৪ ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। তবে এর আগেই তাঁর ‘নিখোঁজ’ থাকা নিয়ে ঘটে গেছে রক্তপাত। এভাবে তাঁকে নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পরিবার ও সমর্থকরা।

গতকাল রবিবার ভোর ৪টার দিকে কালকিনি পৌর এলাকায় নিজ বাসায় ফেরার পর সবুজ দাবি করেন, পুলিশের গাড়িতে করে তাঁকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান নিশ্চিত করেন, মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ বাড়ি ফিরে এসেছেন। তাঁর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ‘পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল’—এ কথা মানতে অস্বীকার করেন তিনি।

মশিউর রহমান সবুজ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলেন। একই সঙ্গে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

কালকিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সবুজ বলেন, তিনি এখন দলের কোনো পদে নেই, দল থেকে মনোনয়নও চাননি। কালকিনিবাসী তাঁকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। জনগণের সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবেন—কেন্দ্রীয় নেতাদের তিনি এ কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কথা বলার পর এক আত্মীয়ের গাড়িতে করে তিনি কালকিনির বাড়িতে ফেরেন বলে জানান সবুজ।

এর আগে গত শনিবার বিকেলে সবুজের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ক্যামেলিয়া ফেরিতে পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসানকে দেখতে পান সাংবাদিকরা। পরে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছার পর পুলিশ সুপারের গাড়িতে সবুজকে উঠতেও দেখা যায়। পরে সবুজ তাঁর মোবাইল ফোনেও পুলিশ সুপারের সঙ্গে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সবুজের স্বজন ও তাঁর সমর্থকরা জানায়, গত শনিবার দুপুর ২টার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার পালপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন সবুজ। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের কল আসে। তাৎক্ষণিক সেখানে কালকিনি থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন গাড়ি নিয়ে হাজির হন। ওই গাড়িতে সবুজকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর প্রতিবাদে কালকিনি থানা ঘেরাও করে সবুজের সমর্থকরা। টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেয় তারা। কালকিনি-ভুরঘাটা ও কালকিনি-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এস এম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় তারা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সবুজের স্ত্রী জাহান গতকাল বলেন, ‘যদি নির্বাচনের কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করেন সবুজ তাহলে নির্বাচন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ কেন এভাবে তাঁকে গাড়িতে করে উঠিয়ে নিয়ে যাবে?’ সবুজ ভোর ৪টায় বাড়িতে ফেরার পর সুস্থ আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকালের সংঘর্ষে আমাদের অনেক লোক আহত হয়েছে।’

আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী এস এম হানিফ বলেন, ‘শুধু শুধু আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে। আমার অনেক লোককে মেরে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে; অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’ বাবুল নামে এক কর্মীর অবস্থা বেশি খারাপ বলে জানান তিনি।