আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

163159highcourt

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে কুষ্টিয়ার এসপিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ কুষ্টিয়া ও যশোরে পুলিশী ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, কুষ্টিয়ার ঘটনায় পত্রপত্রিকায় যেটি উপস্থাপিত হয়েছে, সেটি যদি বাস্তব চিত্র হয় তবে সেটা হবে ভয়ঙ্কর। আদালত বলেন, যশোরের অবস্থা আমাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে দিয়েছে। জাতি উৎকণ্ঠিত। এই উৎকণ্ঠা নিরসন করা আপনাদের দায়িত্ব। আদালত কুষ্টিয়ার এসপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওই জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। কে কোন দল, মত, আদর্শের এটা বিবেচ্য বিষয় নয়। আপনার দায়িত্ব সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনি সেখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবেন। পুলিশ যাতে ভীতিকর না হয়, জনগণের বন্ধু হতে হবে। আপনাকে কথায় পটু হলে হবে না। কাজে পটু হতে হবে। আদালত বলেন, এমন কাজ করবেন না যাতে মানুষের মনে হয় যে, একটি পুলিশী রাষ্ট্র কায়েম হয়ে গেছে।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার(এসপি) এস এম তানভীর আরাফাতের দুর্ব্যবহারের ঘটনায় আদালত অবমাননার রুলের ওপর শুনানিকালে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ মন্তব্য করেন। আদালতে এসপির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী ও আহম্মেদ ইশতিয়াক। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তাহেরুল ইসলাম।

এদিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে সংশ্লিস্ট ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্থানীয় উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী ও তার পরিবার এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে কুষ্টিয়ার এসপিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করে এসপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, এ ক’দিন আমরা আপনার কর্মকান্ড দেখবো।

হাইকোর্টের নির্দেশে গতকাল সকালে হাইকোর্টে হাজির হন এসপি তানভীর আরাফাত। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ভুল হয়েছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত নয়। ওই ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

এরপর ব্যারিস্টার অনিক আর হক প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এই প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে

দেড়ঘন্টা আটকে রেখে মানষিক নির্যাতন করেছেন। এসময় তিনি একটি জাতীয় দৈনিকে ওই বিচারকের সঙ্গে এসপির পূর্ব কর্মকান্ড নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

শুনানিকালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা শুধুই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নন, সেখানে সাংবাদিকসহ অনেকেরই নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সেটাও আদালতের দেখা প্রয়োজন বলে মনে করি।

শুনানিকালে আদালত বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিচারিক দায়িত্ব পালনের জন্য ওই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগপ্রাপ্ত। সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রের অপরাপর অঙ্গের দায়িত্ব তাকে সহযোগিতা করা। পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আপনি একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা। আপনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ঠিক। কিন্তু মনেরাখতে হবে এটা কোনো সাধারণ আদালত অবমাননা নয়। এটাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

আদালত বলেন, আপনাদের মধ্যে অনেক দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, যারা অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। আপনাকেও সে জায়গায় যেতে হবে। আপনি তো রাষ্ট্রপতির পদক পেয়েছেন। আপনার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। সেটা কাজে লাগান। সমাজকে একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে নিয়ে যান। রাষ্ট্রের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করাই দক্ষতা। আপনার কাছে প্রত্যাশা, আইনের শাসন ও সামাজিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এগুলো বিচার বিভাগের একার পক্ষে দেখা সম্ভব না। রাষ্ট্রের অন্য দুইটা অঙ্গের সহায়তা নিয়ে এগুলো করতে হয় বিচার বিভাগকে।

গত ১৬ জানুয়ারি ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার(এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত দুর্ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় পরদিন এসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই বিচারক নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। এর অনুলিপি গত ১৯ জানুয়ারি আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরেও পাঠানো হয়। এ ঘটনা ২০ জানুয়ারি বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসার পর আদালত সপ্রনোদিত হয়ে এক আদেশে ওই এসপিকে তলব করেন। এসপিকে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে বিচারকের সঙ্গে দূর্ব্যবহারের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। এ আদেশের পরই এসপি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন ওই এসপি