আজ ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1030 103650

ফ্রান্সের গীর্জায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ফ্রান্সের নিস শহরে ছুরিকাঘাত করে তিন ব্যক্তিকে হত্যা ও বেশ কয়েকজনকে আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব।

বৃহস্পতিবার সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের একটি গির্জায় হওয়া ওই হামলাকে ইসলাম বহির্ভূত কাজ আখ্যায়িত করে বলেন, যারা এই বর্বর কাজ যারা করেছে তারা সব ধর্ম এবং মানব বিশ্বাসের শিক্ষার বিরোধী।

ঘৃণা, সহিংসতা এবং চরমপন্থার দিকে পরিচালিত করে এমন কাজগুলো প্রত্যাখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে এসব বর্জনের আহ্বান জানান তিনি। ফ্রান্সের গির্জায় নিহতদের পরিবার, ফরাসি সরকার এবং জনগণের প্রতি তিনি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগও ফ্রান্সের এই হামলার নিন্দা করে একে সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ফ্রান্সের এক বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) কটুক্তি করলে বাসায় ফেরার পথে তিনি হত্যার শিকার হন।

এর অজুহাত দেখিয়ে ফরাসি সাপ্তাহিক কার্টুন ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো থেকে সরকারি সহায়তায় ফ্রান্সের বিভিন্ন সরকারি ভবনে মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে নিহত শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এ বিষয়ে বলেন, ওই শিক্ষককে প্রজাতন্ত্রের ধারকবাহক হওয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলামপন্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিজেদের মত বানাতে চায়। তারা আমাদেরকে একটি মুক্ত সম্প্রদায় হিসেবে বসবাস করতে দিবে না।

ম্যাক্রো প্যাটিকে শান্ত নায়ক হিসেবে বর্ণনা করে তাকে ফ্রান্সের মরণোত্তর সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, ল্যাজিওন ডি’হ্নেউর সম্মানিত করা হয়।

এর আগেও মহানবীকে কটুক্তির ঘটনায় ম্যাক্রোকে নিশ্চুপ ভুমিকায় থাকতে দেখা গেছে। তিনি এই কটুক্তিকে ব্যক্তি স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্যমতে মহানবী (সা.) এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন বাকস্বাধীনতারই অংশ।

২০১৫ সালে শার্লি হেবদো রাসুল (সা.)কে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন বানায়। সেই কটুক্তির জেরে শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলা চালায় কয়েকজন বন্দুকধারী। সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামীদের বিচার শুরু হওয়ার পরে এ নিয়ে দ্বিতীয় খুনের ঘটনা ঘটলো প্যারিসে।

তবে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে সরকারি ভবনে মহানবী (সা.) এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শনকে ইসলাম এবং ধর্ম অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুসলিম নেতারা।