আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

FB IMG 1604053457199

ফ্রান্সে মহানবীকে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: চীনের উইঘুর মুসলিমদের উপর অমানবিক নির্যাতন এবং সারা বিশ্বের মুসলিমদের উপর পাশবিক নির্যাতন সহ ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বাদ জুমা এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী জেলা শাখা। নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে সোনাদীঘির মোড় হয়ে কুমারপাড়া প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী জেলার সভাপতি মাওলানা তৈয়বুর রহমান নিজামি। এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মাওলানা নেক আহম্মেদ, মিনহাজ উদ্দিন, মুফতি মোঃ ইয়াকুব, জাকারিয়া হাবিবী, হাবিবুর রহমান কাসেমী, আব্দুল মজিদ, মুফতি আলী আকবর ফারুকী, বোরহান উদ্দীন সাঈদ, মুফতি হুসাইন আহমেদ, মোর্শেদ আলম, রশীদ আহম্মদ প্রমূখ।

এসময় বক্তরা বলেন, ‘ফান্সে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে ইসলামকে অবমাননা করে রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। শুধু ফ্রান্সে নয়, বিশ্বের অনেকগুলো দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। আমরা সেই সব ঘটনার নিন্দা জানাই।

তারা আরো বলেন, আমাদের রাসুলকে কতটা ভালোবাসি, আমরা রক্ত দিয়ে প্রমাণ করবো। আমাদের নবীকে নিয়ে কুটক্তি করা হলে আমরা ঘরে বসে থাকবো না। এছাড়া বিক্ষোভ থেকে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এ দিকে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন জামে মসজিদে খুৎবায় কুরআন হাদীসের আলোকে বক্তব্য প্রদান করেন এবং ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করায় এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব শাহ সুলতান ( রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাইখ মাও মোঃ দুরুল হোদা বলেন, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ফ্রান্স নবী সাহেবের যে অবমাননা করছেন তার দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এর তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে যেন আর কোন রাষ্ট্র এ ধরনের কাজ করার সাহস না পাই। তিনি আরও জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেছেন, মহান আল্লাহর পর যিনি সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী তিনি হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। রাস্তায় চলার সময় পাহাড়,বৃক্ষ ও পাথরও তাঁকে সালামের হাদিয়া পেশ করে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় চন্দ্র পর্যন্ত দ্বি-খন্ডিত হয়েছে। মহান রাব্বুল আলামীন তাঁকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত করে প্রেরণ করেছেন। কাল ক্বিয়ামতের দিন যখন সবাই চিৎকার করবে নাফসী নাফসী করে তখন তিনি কাঁদবেন উম্মাতী উম্মাতী করে। তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর উম্মত হতে পারা আমাদের জন্য এক পরম সৌভাগ্য ও পরিতৃপ্তির বিষয়। আর তাঁর প্রতি কোনরূপ বিদ্বেষ পোষণ করা অপরিণামদর্শিতা বৈ আর কিছুই নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ফরমান তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ, জিব্রাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তু ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী। (সূরা তাহরীম, আয়াত-৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, নবী আমার! বিদ্রপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে আমি একাই যথেষ্ট। (সূরা হিজর,আয়াত-৯৫)। মাওলানা আফেন্দী আরো বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাসূল (সা.) এর অবমাননাকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে চরম ধৃষ্ঠতাপূর্ণ আচরণ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সম্মান সুরক্ষিত না থাকলে আমাদেরও বেঁচে থাকার কোন স্বার্থকতা নেই।