আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1024 122224

বাইডেনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র, জো বাইডেন নামেই বেশি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পদচারণ। কাউন্সিলম্যান হিসেবে শুরু। পরে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন টানা ৩৫ বছর। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম ভাইস প্রেসিডেন্ট। ‘ট্রাম্প দেশের যে ক্ষতি করেছেন, তা পুষিয়ে নেওয়ার’ অঙ্গীকার করে তিনি এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন। বলেছেন, করোনা মোকাবেলা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, পরিবেশ রক্ষা, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, অভিবাসননীতিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে অগ্রাধিকার দেবেন।

জন্ম : ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভানিয়ার স্ক্রানটনে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। বাবা জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র, মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান। ক্যাথরিন আইরিশ বংশোদ্ভূত।

শিক্ষা : বাইডেন ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। পরে সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে ডিগ্রি নেন।

পরিবার : ১৯৬৬ সালে নিলিয়া হান্টারকে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে তিন সন্তান। ১৯৭২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিলিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৭৩ সালে জিল ট্রেসি জ্যাকবকে বিয়ে করেন বাইডেন। তাঁদের ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে।

৩০ বছরে সিনেটর : ১৯৭২ সালে ডেলাওয়ার থেকে মাত্র ৩০ বছরে সিনেটর হয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি। তবে এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী নিলিয়া ও মেয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত দুই ছেলে বো ও হান্টারের দেখাশোনার জন্য সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবন : ১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন বাইডেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। পরে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিনেটর নির্বাচিত হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

হোয়াইট হাউসের দৌড়ে ব্যর্থতা : ১৯৮৭ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেনশিয়াল প্রাইমারিতে লড়ার ঘোষণা দেন বাইডেন। তবে ব্রিটিশ এক রাজনীতিকের বক্তব্য হুবহু নিজের বলে চালিয়ে দেওয়াসহ নানা কারণে পিছু হটেন। ২০০৭ সালে আবার প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় প্রাইমারিতে নামেন। এ যাত্রায় বারাক ওবামা আর হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। পরে ২০০৮ সালে ওবামা তাঁকে রানিংমেট হিসেবে বেছে নেন।

‘বাসিং’ বিরোধিতা : সত্তরের দশকে কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের বাসে করে শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত স্কুলগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, যৌথ-শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া। তাঁর রানিং মেট কমলা হ্যারিস দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সময়ে এ নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন।

ইরাক যুদ্ধে সমর্থন : ২০০২ সালে সিনেটের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান থাকার সময় বাইডেন ইরাক যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। যদিও নানা সূত্রে সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ থাকার ব্যাপারে ভুল তথ্য পাওয়ার ব্যাপারটি সামনে আসে। পরে অবশ্য এটা তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে স্বীকার করেন। একইভাবে ১৯৯৪ সালে ‘অপরাধ আইন’ প্রণয়নের ব্যাপারেও নিজের ভুল মেনে নেন তিনি।